বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক খাতের বিকাশের সময়কাল এবং সেখানে আপনারা কীভাবে শুরু করলেন?
বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা শুরু হয়েছিল ১৯৭০-৭৫ সালের পর থেকে। ইলেক্ট্রো মার্টের যাত্রা শুরু হয় কোম্পানির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুন নেওয়াজ সেলিমের হাত ধরে। ১৯৮০ সালে স্বল্প পুঁজি দিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। সিঙ্গাপুর, হংকংসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমরা ইলেকট্রনিক পণ্য সোর্সিং করে নিয়ে আসতাম। চট্টগ্রামে ছোট একটা অফিসের মাধ্যমে শুরুর প্রথমদিকে এগুলো হোলসেলে বিক্রি করা হতো। এরপর পর্যায়ক্রমে আমরা তিন সহোদর ব্যবসায় যুক্ত হই। এভাবেই ব্যবসা শুরু। শুরুতে অনেক প্রতিকূলতাও ছিল।
ভৌগোলিক অবস্থান আপনাদের উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে কোনো ভূমিকা রেখেছে কিনা?
আমাদের গ্রামের বাড়ি ফেনী, সেটা চট্টগ্রামের কাছাকাছি হওয়ায় অবশ্যই এটা সহযোগিতা করেছে। আমার বড় ভাই তার হংকংয়ের এক বন্ধুর মাধ্যমে এটা শুরু করেন। সে সময় ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকায় খাতটি সম্ভাবনাময় ছিল। সে কারণে তিনি ইলেকট্রনিক পণ্যকেই বেছে নেন। ভালো ব্র্যান্ডের মানসম্পন্ন পণ্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোই ছিল আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।
শুরুর দিকের প্রতিকূলতা নিয়ে জানতে চাই। কেমন ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখেছেন?
প্রথমদিকে পুঁজির স্বল্পতা ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। সে সময় নতুন ব্যবসায় ব্যাংক থেকে অর্থায়ন বা ঋণ পাওয়াটা খুব সহজসাধ্য ছিল না। পরবর্তী সময়ে ব্যাংক, এনবিআর ও সরকারি সংস্থা থেকে নানা ধরনের সহায়তা পেয়েছি।
ঋণ নিয়ে ব্যবসা করলেও কখনো ঋণখেলাপির কথা শোনা যায়নি—এ সাফল্য কীভাবে দেখালেন?
আমরা সবসময় ‘মানি ম্যানেজমেন্ট’ বা আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। পাশাপাশি ব্যাংকের টাকা নিয়ে ব্যবসা করে তা সময়মতো ফেরত দেয়াই ছিল আমাদের মূলমন্ত্র, যার ফলে আমাদের কোনো ব্যাংক ঋণ খেলাপি হওয়ার ইতিহাস নেই।
পণ্যের প্রযুক্তিগত কোন বিশেষত্বকে আপনারা গুরুত্ব দেন?
প্রথমে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, গ্রাহকদের মানসম্পন্ন পণ্য প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দেব। ১৯৯৮ সালের দিকে আমরা কিছু ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করতে শুরু করি। সাশ্রয়ী মূল্যে দেয়ার জন্য আমরা চীন থেকে সোর্সিং শুরু করি। ভালো মান ও সাশ্রয়ী দাম হওয়ার কারণে প্রথম আমরা আমদানি করি কনকা ব্র্যান্ড। শুরুতে চীনা পণ্যের মান নিয়ে মানুষের মনে কিছুটা অনীহা ছিল, যা দূর করতে আমরা পাঁচ বছরের গ্যারান্টি ও রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দিই। সে সময় বাজারে কোনো পণ্যেই ওয়ারেন্টি কিংবা বিক্রয়োত্তর সেবা তেমনভাবে ছিল না। এভাবেই গ্রাহকদের কাছে আমরা আস্থা তৈরি করি।
মানুষকে সাধ্যের মধ্যে সেরা জিনিস দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে চীন থেকে কনকা টিভি নিয়ে আসে ইলেক্ট্রো মার্ট। তখন বাজারে একটি সাধারণ টিভির দাম যেখানে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিল, আমরা সেখানে মাত্র ১২ হাজার টাকায় কনকা টিভি সরবরাহ করি। ২০০২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সময় মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আমাদের পণ্য কিনেছে। পরে চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজারে নিয়ে এলাম ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ইত্যাদি। চ্যানেল পার্টনার যেমন ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারের মাধ্যমে সারা দেশে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হই। এরপর নিয়ে আসি গ্রী এবং আমাদের নিজেদের ব্র্যান্ড হাইকো। পরবর্তী সময়ে কনকার অন্যান্য পণ্য ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স আমাদের পোর্টফোলিওতে যোগ করি। একইভাবে আমরা ১৯৯৯ সালে গ্রী এয়ারকন্ডিশনার বাজারে নিয়ে আসি। সে সময় এসি ছিল বিলাসপণ্য। আমরা চেষ্টা করি এসিকে বিলাসিতার বদলে মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত করতে।
ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারের আকার এবং আপনাদের অংশীদারত্ব কত?
প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বাজার। এর মধ্যে বর্তমানে এসির বাজারে আমরা শীর্ষস্থানে আছি। আর অন্যান্য পণ্যে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছি।
আমদানিকারক থেকে উৎপাদক হয়ে ওঠার যাত্রাটি কেমন ছিল?
ইলেক্ট্রো মার্ট ২০০৩-০৪ সালের দিকে এসকেডি ফ্যাক্টরির মাধ্যমে উৎপাদন শুরু করে। ২০১৯ সালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় কনকার সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগে রেফ্রিজারেটর তৈরির বিশাল কারখানা স্থাপন করি। এখানে ইউরোপীয় ও চীনা প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশের আবহাওয়া উপযোগী পণ্য উৎপাদন শুরু করি। এরপর ২০০০ সালে গ্রীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এসকেডি এয়ারকন্ডিশনার ফ্যাক্টরি স্থাপন করা হয়। যেহেতু আমরা প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগে বেশকিছু পণ্য তৈরি করছি, তখন আমরা নিজেরাই নিজেদের ব্র্যান্ড তৈরির উদ্যোগ নিই।
বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরির মূল কৌশল কি সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য—এটাই ছিল?
আমাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি কেবল ‘সাশ্রয়ী মূল্য’ নয়, বরং ‘প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সেরা মান’ নিশ্চিত করা। আমরা বিশ্বাস করি, পণ্যের গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য এবং বিক্রয়োত্তর সেবার সমন্বয়েই গ্রাহকের আস্থা অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ আস্থার ওপর ভিত্তি করেই আজ আমরা বাজারের শীর্ষে অবস্থান করছি।
গ্রাহক সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা সারা বাংলাদেশে বিক্রয়োত্তর সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। সারা দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার দক্ষ টেকনিশিয়ান নিয়োজিত আছেন, যারা নিরলসভাবে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থায়ী ও অস্থায়ী সব টেকনিশিয়ানকে নিয়মিত আধুনিক প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, যাতে তারা সময়ের সঙ্গে আপডেট থাকতে পারেন। ইলেক্ট্রো মার্টের স্থায়ী কর্মী তিন হাজার এবং অস্থায়ী কর্মীসহ প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ এর সঙ্গে জড়িত।
এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ব্যবসা রূপান্তর প্রক্রিয়াটি আপনারা কীভাবে সম্পন্ন করছেন?
এরই মধ্যে আমাদের নতুন প্রজন্ম সক্রিয়ভাবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যারা বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বেশ দক্ষ। নতুন প্রজন্ম তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে বেশি আগ্রহী। বিক্রয়োত্তর সেবাকে আরো উন্নত ও গ্রাহকবান্ধব করতে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া ব্যবসা পরিচালনার প্রতিটি স্তরে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অটোমেশন যুক্ত করে প্রতিষ্ঠানকে আরো সমৃদ্ধ করার ব্যাপারে তারা অত্যন্ত মনোযোগী।
উৎপাদন নিয়ে সম্প্রতি কোনো ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?
বিদ্যমান প্লান্টেই ক্যাপাসিটি বা ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রতিনিয়ত সেখানে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। আরো অন্যান্য পণ্য সেখানে তৈরির চেষ্টা অব্যাহত আছে।
দেশের ইলেকট্রনিকস শিল্পে প্রতিনিয়ত বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আপনারা সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের নীতিসহায়তা প্রত্যাশা করছেন?
এ শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য আমরা সরকারের কাছ থেকে অন্তত ৫-১০ বছর মেয়াদি একটি স্থিতিশীল নীতিমালা প্রত্যাশা করি, যেন পরবর্তী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নীতির দিকে তাকাতে না হয়। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নীতিসহায়তা প্রতি বছর আপডেট বা পরিবর্তন করতে হয়। এক বছর মেয়াদি পলিসির কারণে আমরা প্রায়ই দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকি, যা আমাদের বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে এবং প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দেয়।
এছাড়া ভবিষ্যতের বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি গাইডলাইন থাকা প্রয়োজন। সঠিক গাইডলাইনের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না, যার ফলে তারা রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হচ্ছে।
আসন্ন বাজেটে দেশের ইলেকট্রনিক খাতের উন্নয়ন ও প্রসারে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব আছে কি?
আমাদের প্রধান দাবি হলো দীর্ঘমেয়াদি নীতিসহায়তার পাশাপাশি বর্তমান শুল্ক ও ভ্যাট কাঠামোর পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন। আগে উৎপাদন পর্যায়ে ইলেকট্রনিক খাত ভ্যাটমুক্ত ছিল। বর্তমানে উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং তার সঙ্গে আরো ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর মিলিয়ে মোট ১৭ শতাংশ কর আমাদের বন্দর পর্যায়েই পরিশোধ করতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যাংক ইন্টারেস্টের কারণে ব্যবসায়ীরা ‘ক্যাশ ফ্লো’ বা নগদ অর্থপ্রবাহের সংকটে পড়ছেন। আগে আমরা এ ভ্যাট প্রদান করতাম পণ্য বিক্রয় পর্যায়ে। সরকার যদি এটা আগের অবস্থায় নিয়ে আসে, তাহলে আমাদের জন্য এটা সহজ হবে।
ইলেকট্রনিক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে আমাদের অবস্থান কোথায়?
ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে ইলেক্ট্রো মার্টসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে। ইলেকট্রনিক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে এখনো আমরা অনেক দূরে আছি। এর জন্য আমাদের মার্কেট সাইজও অনেকটা দায়ী। যেমন কম্প্রেসর ও প্লাস্টিক ম্যাটেরিয়াল। এগুলোর চাহিদার ভিত্তিতে কারখানা তৈরি করার মতো এখনো বড় বাজার আমাদের তৈরি হয়নি। এসব কাঁচামালের ক্ষেত্রে আমরা রেজিন নিয়ে আসি। রেজিন থেকে বিভিন্ন আইটেমের প্লাস্টিক পণ্য তৈরি করি। স্টিলের শিট নিয়ে আসি, এগুলো দেশে এনে শেপিং (কাটিং, মোল্ডিং) করা হয়। কম্প্রেসর ও মোটরের ক্ষেত্রে আমাদের আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়।
দেশের ইলেকট্রনিক খাতে রফতানির সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?
আমাদের ইলেকট্রনিক খাতে রফতানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশ আগামীতে ‘এশিয়ার ইলেকট্রনিক হাব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে। তৈরি পোশাক খাতের মতো ইলেকট্রনিক খাতেও যদি ‘বন্ডেড সুবিধা’ প্রদান করা হয়, এর পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়, তাহলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়বে। অনেক বাধার কারণে এখনো রফতানিতে আমরা যেতে পারিনি। যেহেতু টিভির চাহিদা কমছে, তাই রফতানির ক্ষেত্রে ফ্রিজ বা এসি নিয়ে আমরা আগে ভাবছি।
ইলেকট্রনিক খাতের টেকসই উন্নয়নে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ইলেকট্রনিক খাতে একটা ইকোসিস্টেম দাঁড় করাতে চাই। নতুন নতুন প্রযুক্তি ও পণ্য নিয়ে দেশের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছতে চাই। দেশের ইলেকট্রনিক খাতকে সমৃদ্ধ করতে চাই। দেশের মানুষের কর্মসংস্থানে কাজ করতে চাই।
যেসব পণ্যে আপনাদের ভালো অবস্থান আছে, সে অবস্থান তৈরির পেছনে আপনাদের ভূমিকা কী ছিল?
বাজারে আজকের অবস্থানের জন্য মানসম্পন্ন পণ্য এবং বিক্রয়োত্তর সেবাই ছিল আমাদের মূলমন্ত্র। এর পাশাপাশি নতুন নতুন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সঙ্গে গ্রাহকদের পরিচিত করা। যেমন গ্রী এসিতে স্মার্ট ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। গ্রী এসির সিরিজে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড এআই চিপ এবং জি-লার্নিং অ্যালগরিদম, যা সর্বাধিক দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহারকারীর পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য রিড করে প্রোফাইল তৈরির মাধ্যমে দৈনন্দিন রুটিন এবং পছন্দের তাপমাত্রা সেটিংস করে সর্বোচ্চ আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করে। এ সিরিজের হাইব্রিড ডিফ্রস্টিং টেকনোলজি একটানা ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত হিট প্রডিউস করতে পারে, ফলে শীতকালেও ঠাণ্ডা নিয়ে টেনশন ফ্রি থাকা যায়। গ্রী এসির স্মার্ট হিউমিডিফিকেশন রুমের হিউমিডিটি ব্যালান্স করে রুমকে রাখে সতেজ এবং ত্বকের ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করে। গ্রী এসির কোল্ড প্লাজমা প্লাস টেকনোলজি ঘণ্টায় ৯৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া দূর করে সম্পূর্ণ বাতাস পরিশোধন করতে সহায়তা করে। কোল্ড অ্যালার্জির কারণে অনেকে দীর্ঘ সময় ধরে এসি ব্যবহার করতে পারেন না। তাদের স্বাচ্ছন্দ্যে দীর্ঘ সময় এসি ব্যবহারের নিশ্চয়তা প্রদান করে। আমরাই এসিতে দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি ব্যবহার করছি।
এছাড়া আমাদের উৎপাদিত ফ্রিজে গার্ডেন ফ্রেশ ও ভিটামিন ফ্রেশ প্রযুক্তির মাধ্যমে ১৭ দিন পর্যন্ত সবজি সতেজ থাকে। কনকা ফ্রিজে রয়েছে ডিজিটাল ডিসপ্লে এবং ইনভার্টার টেকনোলজি, যা বাইরে থেকেও ফ্রিজকে কন্ট্রোল করা যাবে। টেম্পারেচার এবং অন্যান্য ফাংশন বাইরে থেকে হাতের স্পর্শের মাধ্যমে কন্ট্রোল করা সম্ভব। দুই-চারদিনের জন্য বা এর চেয়ে বেশি সময়ের জন্য ঘরের বাইরে থাকলে কনকা ফ্রিজটি ইকোনমি মোডের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। এতে বিদ্যুৎ বিল কম আসবে এবং খাবারও সতেজ থাকবে। এছাড়া পরিবেশ রক্ষা আমাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। কনকা রেফ্রিজারেটরে আমরা পরিবেশবান্ধব আর-৬০০ রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করি, যা ওজোন স্তরের ক্ষতি করে না এবং এর গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়ালও অত্যন্ত কম। আমাদের সব রেফ্রিজারেটর ১০০% সিএফসি ও এইচসিএফসিমুক্ত।
ইলেক্ট্রো মার্টের গবেষণা ও উন্নয়ন বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা জানতে চাই।
গবেষণা ও উন্নয়নে আমরা প্রতিনিয়ত বিনিয়োগ বাড়াচ্ছি। দেশীয় প্রকৌশলীরা আমাদের চীনা টিমের সঙ্গে একত্রে কাজ করছে। ইউরোপের কিছু প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের পণ্যে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে প্রতিনিয়ত কাজ চলছে।
বর্তমানে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন?
দুই বছর ধরে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। ২০২৪ ছিল গণ-অভ্যুত্থানের বছর। সে সময় নানা আন্দোলন হয়েছে, বর্তমানে যোগ হয়েছে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ। তিন বছর ধরে ডলারের মূল্য অনেক বেশি। এছাড়া ব্যাংকে এলসি করতেও অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছি। চ্যালেঞ্জ নিয়েই আমাদের ব্যবসা, প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকতে হয়। কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও আমাদের কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে।