অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে পানি বেড়ে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাবে, এরই মধ্যে ৩০৫ হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে সহস্রাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারী হিসাবের চেয়েও বেশি; হাওরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জমিই এখন পানির নিচে।
গতকাল সোমবার সকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক এলাকায় বুকসমান, কোথাও কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে কৃষক ও শ্রমিকদের। আবার যেসব ধান কাটা হচ্ছে, রোদ না থাকায় তা শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে একদিকে ফসল তলিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে কাটা ধানও রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, গত কয়েকদিনে নতুন নতুন জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ কৃষকই ঋণ ও ধারদেনার মাধ্যমে আবাদ করেছিলেন। আকস্মিক ঢলে ফসল হারিয়ে তারা আর্থিকভাবে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ জানান, নাসিরনগরের হাওরে চলতি বোরো মৌসুমে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। তবে আগাম পানি আসার আগেই ৭০ শতাংশ ধান ধান কাটা হয়েছে। পানি বাড়ায় বর্তমানে প্রায় ৩০৫ হেক্টর ধানি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচ থেকে কাটা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, সহস্রাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত আছে। কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। বোরো ধান সংগ্রহ মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।