নদী ভাঙন

গাইবান্ধায় নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ফসলি জমি

গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ঘাঘট নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও পানি বেড়ে যাওয়ায় কয়েকদিন ধরে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন।

একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি। ভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পেতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লালচামার, হরিপুর ও শখের বাজার থেকে শুরু করে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের চর কুন্দেরপাড়া, ফুলছড়ি উপজেলার বালাশিঘাটের কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর, সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, পুঁটিমারী, শিংহজানি, গোবিন্দপুরসহ অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই হারিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। কেউ ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

নদীর নির্মম গ্রাসে এরই মধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। অনেকের জন্য এটি নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। নদীভাঙনের শিকার হয়ে কেউ তিনবার, কেউ চারবার পর্যন্ত হারিয়েছেন নিজের বসতভিটা। বছরের পর বছর নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা এসব মানুষের চোখে এখন শুধু অনিশ্চয়তা আর হতাশা।

সরজমিনে দেখা যায় ফুলছড়ি উপজেলার বালাশিঘাটের পাশে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুরে ভাঙনের তীব্রতা এতই বেশি যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন তাদের ঘরবাড়ি, আসবাব ও গবাদিপশু সরিয়ে নেয়ারও সুযোগ পাচ্ছে না। চোখের পলকে বসতভিটা, আবাদি জমি, গাছগাছালি ও বাঁশঝাড় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে, রাস্তার ধারে কিংবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙনরোধে স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজিয়া বেগম (৫২) বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দুঃখ-কষ্ট করে ১০ শতক জায়গা কিনেছিলাম। সেই জায়গাও নদীর মধ্যে চলে গেল, এখন আমরা কোথায় থাকব।’ একই গ্রামের বাসিন্দা মোছা. নুরী বেগম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভাঙতে ভাঙতে আজকে গুরুতর পর্যায়ে পরে গেছে। আজকে একদম বেশি গাছগাছালি তলে যাচ্ছে, কেউ কাটতে পারছেন না। বাড়ি সরানোর বুদ্ধিও নাই। আমাদের বলার কিছু নাই। যত দ্রুত সম্ভব জিও ব্যাগ দিয়ে আমাদের রক্ষা করেন।’

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকার প্রতিবেদন নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। সবগুলো ভাঙন পয়েন্টে কাজের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

আরও