নাটোরে দুশ্চিন্তার কারণ লাম্পি স্কিন রোগ

ঈদুল আজহায় চামড়া সংগ্রহের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নাটোরের চামড়ার মোকামের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী।

তবে চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতির মধ্যে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে গরুর লাম্পি স্কিন রোগ। কারণ বিগত দিনে সংগ্রহ করা চামড়ার ৩০-৪০ শতাংশ ছিল লাম্পি রোগে আক্রান্ত গরুর চামড়া। এবার এ রোগে আক্রান্ত গরুর চামড়া নাটোরের বাজারে এলে তা না কেনা এবং সরকারি মূল্যে মূল্য না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে চামড়া সমিতি। তবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘গরুর লাম্পি স্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণে আমরা ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার ও ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেছি। কোরবানির গরুতে এখন লাম্পি স্কিন রোগ নেই। আশা করছি, ভালো মানের চামড়া বাজারে আসবে।’

নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য বলছে, বছরের মোট চাহিদার অন্তত ৫০ শতাংশ চামড়া সংগ্রহ হয় কোরবানির ঈদে। এর মধ্যে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ জোগান দেয় নাটোরের চকবৈদ্যনাথের কাঁচা চামড়ার আড়ত। তাই আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে চামড়া সংগ্রহের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। তবে ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া ৭০ কোটি টাকা এবং গরুর লাম্পি স্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণে না আসায় বেশ বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।

নাটোরের চকবৈদ্যনাথের চামড়া ব্যবসায়ী কমর উদ্দিন কমল বলেন, ‘একটি গরুর চামড়া অন্তত ৩৫ ফুট লম্বা হয়। ভালো মানের হলে যার দাম হতো ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সেই গরুর চামড়ার দাম মাত্র ১১০ টাকা। তাছাড়া ওই চামড়া প্রসেসিং করতে আরো ৩০০-৩৫০ টাকার লবণ লাগে। সব মিলিয়ে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর চামড়া কেউ নিতে চায় না। এতে মৌসুমি ব্যবসায়ী এমনকি আড়ত মালিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, ‘বিগত ঈদে আমরা যে পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ করেছি, তার ৩৫-৪০ শতাংশ ছিল লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর চামড়া। তাই আমরা এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, রোগে আক্রান্ত গরুর চামড়ার দাম আমরা দেব না।’

নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি গ্রুপের সভাপতি সায়দার খান বলেন, ‘ভালো মানের চামড়ার দাম সবসময়ই রয়েছে। আমরা সরকার নির্ধারিত দামেই ভালো মানের চামড়া ক্রয় করব। তবে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর চামড়া বাজারে এলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। কারণ তারা না বুঝেই রোগে আক্রান্ত গরুর চামড়া কিনে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। যার কারণে এখানে যখন দাম পান না, তখন আমাদের দোষারোপ করেন এবং বলেন আমরা সিন্ডিকেট করেছি। ফলে ভালো চামড়ার দাম সবসময়ই থাকে।’

আরও