সারা দেশে হামের প্রকোপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৬ জন। একই সময়ে হামের উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছে ৩৪৪ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৬৪, সিলেটে ১৭৭, বরিশালে ১০৩, খুলনায় ১১৭, ময়মনসিংহে ৭৭, রাজশাহীতে ২২ ও রংপুরে ভর্তি হয়েছে ১২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের একজন ঢাকা ও আরেকজন চট্টগ্রাম বিভাগের। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন ও উপসর্গ নিয়ে ৯৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় ৫২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৪৫ জনের শরীরে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জনে। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫ জন। এছাড়া এ পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭১৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৩৩ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া বরিশালে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়েও সবচেয়ে বেশি ৪২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া সিলেটে ১৬৫ জন, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭৪, বরিশালে ৫৯, খুলনায় ৪০ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।
অন্যদিকে দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৭ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ৬১ ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ৪০ জন ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্য হাসপাতালগুলোয় ভর্তি হয় ২১৬ জন।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২৫ জন, চট্টগ্রামে ১৮০, খুলনায় ৮১, ময়মনসিংহে ৯২ এবং রংপুরে ৫২ জন ভর্তি হয়েছে।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৯ হাজার ১৪৭ জন। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৮৩৮ জন হাসপাতাল ছেড়েছে। আর ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৪৬ জন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৭৯ জন, যা মাসের হিসাবে চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।