ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট

২০২৫ সালে বাংলাদেশে এফডিআই এসেছে ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার

২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহ ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

আগের বছর এ বিনিয়োগ ছিল ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। তবে গত বছর নতুন বিদেশী বিনিয়োগ প্রকল্প বা গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগের গতি কমেছে বলে প্রতিবেদনে আভাস রয়েছে। গতকাল বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় মোট এফডিআই প্রবাহ ৩৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এ অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার বিদেশী বিনিয়োগ পেয়েছে ভারত। পাকিস্তানে এফডিআই প্রবাহ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার এবং মালদ্বীপে ৮৫৭ মিলিয়ন ডলার।

আঙ্কটাড বলছে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মধ্যে ২০২৫ সালে এফডিআই প্রবাহ ২১ শতাংশ বেড়ে ৪৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এশিয়া ও ওশেনিয়ার এলডিসিগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ার পেছনে সীমিতসংখ্যক দেশ ও প্রকল্পের অবদান ছিল, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়লেও নতুন প্রকল্প ঘোষণার ক্ষেত্রে দুর্বলতার ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ২০২৫ সালে ঘোষিত গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ প্রকল্পের সংখ্যা কমেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ায় প্রকল্প কমে যাওয়াই এ প্রবণতার অন্যতম কারণ। অর্থাৎ বিদ্যমান প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়লেও নতুন প্রকল্প আকর্ষণে গতি কমেছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ (ইনভেস্টর-স্টেট ডিসপিউট সেটলমেন্ট বা আইএসডিএস) মামলা দায়েরের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে যেসব স্বল্পোন্নত দেশের বিরুদ্ধে নতুন এ ধরনের মামলা হয়েছে, বাংলাদেশ তাদের মধ্যে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের এফডিআই আউটফ্লো ছিল ২৫ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১৫ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় বেশি।

আঙ্কটাডের উপাত্তে দেখা যায়, বাংলাদেশের তুলনায় অনেক ছোট অর্থনীতির কয়েকটি দেশ ২০২৫ সালে বেশি বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। পশ্চিম আফ্রিকার গিনিতে এফডিআই এসেছে ৭ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার, মোজাম্বিকে ৫ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার, কম্বোডিয়ায় ৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার, আইভরি কোস্টে ২ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার এবং ঘানায় ১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের এফডিআই প্রবাহ ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার হওয়ায় এসব দেশের তুলনায় এখনো পিছিয়ে রয়েছে দেশটি।

প্রতিবেদনটি বলছে, বৈশ্বিক বিনিয়োগ ক্রমেই কৌশলগত খাত, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অবকাঠামো, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্বিন্যাসকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। এ প্রেক্ষাপটে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অবকাঠামো, দক্ষ জনশক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠছে।

আরও