জাতীয় নিরাপত্তা আইনে জিমি লাইয়ের ২০ বছরের কারাদণ্ড

ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী জিমি লাই দীর্ঘদিন ধরে বেইজিংয়ের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মালিকানাধীন দৈনিক অ্যাপল ডেইলিকে তিনি বেইজিংবিরোধী প্রতিবাদের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন।

চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় গণমাধ্যম উদ্যোক্তা ও ধনকুবের জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হংকংয়ের একটি আদালত। খবর বিবিসি।

লাইয়ের বিরুদ্ধে হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় বিদেশী শক্তির সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল। রাষ্ট্রবিরোধী বিষয়বস্তু প্রকাশের ষড়যন্ত্র করার আলাদা একটি অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সোমবার হংকংয়ের বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের সব অভিযোগে আদালত লাইকে দোষী সাব্যস্ত করেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে কারাবাসে আছেন লাই।

স্থানীয় সময় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের তিন বিচারকের রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ৭৮ বছর বয়সী এ শিল্পপতি। জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকরের পর এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাজা। চীন সরকার দাবি করে আসছে, হংকংয়ের স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এ আইন প্রয়োজন। তবে সমালোচকদের মতে, আইনটি ব্যবহার করে শহরটির ভিন্নমত ও গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী জিমি লাই দীর্ঘদিন ধরে বেইজিংয়ের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মালিকানাধীন দৈনিক অ্যাপল ডেইলিকে তিনি বেইজিংবিরোধী প্রতিবাদের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন। ২০২১ সালে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় অভিযান ও মামলার মুখে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

একই মামলায় অ্যাপল ডেইলির ছয়জন সাবেক নির্বাহীকেও কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদের সাজা ছয় বছর নয় মাস থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে জিমি লাই একজন প্রতীকী ব্যক্তিত্ব ও ‘নায়ক’ হিসেবে বিবেচিত হলেও বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে তিনি একজন ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’। লাই বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। আদালতে তিনি বলেন, হংকংয়ের আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার—এসব মূল্যবোধের পক্ষে তিনি কথা বলেছেন বলেই তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ রায় হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের কঠোর প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করল। যা ভবিষ্যতে গণমাধ্যম ও ভিন্নমতের ওপর আরো চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও