রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪, আহত ৬

পবা হাইওয়ে থানার ওসি মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি পুঠিয়ার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস এটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শান্ত নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে দুজন পুরুষ ও একজন নারী মারা যান।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বাণেশ্বর হাইওয়েতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বাসের ধাক্কায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ছয়জন। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল-ই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম। এছাড়া একজন নারী ও দুজন পুরুষের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

আর আহতরা হলেন পুঠিয়ার আটভাগা এলাকার ময়নুল ইসলামের ছেলে মুকুল হোসেন (৩৫), সিংহপাড়ার মুশা মন্ডলের ছেলে মোজাম্মেল হক (৫০), পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার এরশাদ আলীর ছেলে রিফাত হোসেন (৩০) ও একই উপজেলার মোজাম্মেল হকের ছেলে রুহুল আমিন (৪০)। আহত আরেকজন শিশু, তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

রামেক হাসপাতালে মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শংকর কে বিশ্বাস বলেন, পুঠিয়া থেকে আহত অবস্থায় ছয়জনকে আনা হয়েছে। তারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ছাড়া তিনজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

পবা হাইওয়ে থানার ওসি মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি পুঠিয়ার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস এটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শান্ত নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে দুজন পুরুষ ও একজন নারী মারা যান।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ওই অঞ্চলের দায়িত্ব ঠিক কাদের- তা নিয়ে জেলা, মহানগর ও হাইওয়ে পুলিশের মধ্যে সংশয় এবং এতে উদ্ধার কাজ বিলম্বিত হওয়ায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তোলেন বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে তারা পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিপাকে পড়েন অনেকেই। পরে পুলিশের উর্ধ্বতনরা গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও এডিসি সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। তবে শেষ খবর যতদূর পেয়েছি, তাতে জেনেছি; পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এবং যানচলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে।

পুঠিয়া থানা পুলিশের ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে ছিলেন।

আরও