নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় বড় ঘূর্ণি সৃষ্টি হয়ে যমুনাপাড়ে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দেড় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও শত শত বিঘা ফসলি জমি। ভাঙন ধেয়ে আসছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটছে যমুনাপাড়ের হাজারো মানুষের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বগুড়া সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বগুড়ায় বর্ষায় পানি পেয়ে যমুনা নদী ধীরে ধীরে ক্ষিপ্র হয়ে উঠছে। সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার কয়েকটি স্থানে আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীরভাঙন ঠেকাতে পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসন থেকে বালির ব্যাগ ও টিউব ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে।
এছাড়া সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর পানি কয়েক দফা বেড়ে এখন বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সারিয়াকান্দির নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বন্যা।
জানা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলায় হাটশেরপুর ইউনিয়নের চকরথীনাথ, ধনারপাড়া, করনজাপাড়া, শেরপুর, শিমুলবাড়ী, নয়াপাড়া, কর্ণিবাড়ী, দুব্বাগাড়ী ও চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের সুজালিরপাড়া গ্রামে ২০১৫ সাল থেকেই যমুনা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এ বছর এলাকায় আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে।
চকরথীনাথ গ্রামে পানি বাড়ার কারণে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কয়েকটি মসজিদ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ তিন শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি ভাঙন হুমকিতে রয়েছে।
ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভাঙনে শহড়বাড়ী স্পারের সামনের অংশের প্রায় ৩০ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বর্ষার এক মাসেই যমুনার ডান তীরের প্রবল ভাঙনে কৃষক পরিবারের বসতভিটা ও প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। গত বছরের অক্টোবরেও এ ইউনিয়নের শহড়বাড়ী গ্রামে হঠাৎ ভাঙনে নয়টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এবার ভাঙন সরাসরি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকে ধেয়ে আসায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নদী ও বৃষ্টির পানি বাড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কৃষিতে। সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর মো. মেহেদী হাসান আলো জানান, গত তিনদিনে এ এলাকায় কমপক্ষে ৩০০ বিঘা জমির ফসল ডুবে গেছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মাহফুজ আলম জানান, সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর কারণে ৩ হাজার ২০০ কৃষকের চাষের জমি পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এ উপজেলায় আনুমানিক ১৬৮ হেক্টর জমিতে পানি প্রবেশ করেছে। পুরো জেলায় এ পর্যন্ত রোপা আমন, বীজতলা, মরিচ, পাট ও অন্যান্য সবজি মিলিয়ে প্রায় ৬০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে আক্রান্ত হয়ে আছে।
বগুড়া পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, যমুনা নদীতে উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণের কারণে পানি বাড়ছে। তবে গতকাল পানি বৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকায় আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই।
তিনি বলেন, ‘ভাঙন শুরুর পরপরই এটি রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় বালিভর্তি বিশেষ টিউব ফেলা হচ্ছে। এগুলো ভাঙনরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’