রাজধানীর আহমদবাগ এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী সামিরা সুলতানা। আহমদবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই তার বাসা। তবে দুই সন্তানের একজনকেও তিনি এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাননি। তাদের পড়াচ্ছেন একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে। কারণটা জানতে চাইলে সামিরা সুলতানা বলেন, ‘কর্মজীবী মায়েদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার কর্মক্ষেত্রের সময়ের সঙ্গে সন্তানের স্কুলের সময় সমন্বয় করা। আমি যে কিন্ডারগার্টেনে তাদের পড়াচ্ছি সেখানে স্কুলের গাড়ি এবং ডে কেয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই সন্তানদের স্কুল থেকে আনা-নেয়ার বিষয়ে বাড়তি চিন্তা করতে হয় না। সরকারি বিদ্যালয়ে এ ধরনের সুবিধা নেই। এছাড়া কিন্ডারগার্টেনের কারিকুলাম সময়োপযোগী এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তারা বেশি যত্নশীল। এসব কারণেই আমি সন্তানদের জন্য কিন্ডারগার্টেনকে বেছে নিয়েছি।
শুধু সামিরা সুলতানাই নন, ঢাকার অধিকাংশ অভিভাবকের মতামত মোটামুটি একই রকম। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রাথমিক শিক্ষা পরিসংখ্যান (২০২৩) অনুযায়ী, ঢাকা জেলার প্রাথমিক পর্যায়ের মাত্র ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে। পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, ঢাকা জেলায় ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৬৪ শতাংশ। ২০২১ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত নেট এনরোলমেন্ট (৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সংখ্যা) ছিল ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৮৭৭, যা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২২ সাল থেকে শিক্ষার্থী সংখ্যা পুনরায় কমতে শুরু করে। ওই বছর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেট এনরোলমেন্ট ছিল ২ লাখ ৯০ হাজার ৬০৩ জন আর ২০২৩ সালে ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭১২ জন। শিক্ষা পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের ব্যবধানে ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৪ লাখ ৪৮ হাজার ১৬৫ জন। অর্থাৎ হারের বিবেচনায় যা ৬৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার মান, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধিক্য এবং আর্থিকভাবে সচ্ছলদের অনীহার কারণেই ঢাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার্থী সংখ্যা কমছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই জরাজীর্ণ ভবনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। নেই কোনো খেলার মাঠ। শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব বিদ্যালয়ে যারা পড়াশোনা করছে, তাদের প্রায় সবাই নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। এ শিক্ষার্থীদের ৩০-৪০ শতাংশ আবার প্রায় নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকা জেলায় অপরিকল্পিতভাবে প্রচুর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসাসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাড়ছে। এসব প্রতিষ্ঠান অভিভাবকদের আকর্ষণ করতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়। অন্যদিকে ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় অবকাঠামোগত সংকট রয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে খেলাধুলার পর্যাপ্ত জায়গা, পরিচ্ছন্ন শ্রেণীকক্ষ তথা উপযুক্ত অবকাঠামো নেই। অনেক বিদ্যালয়ের জায়গাও দখল হয়ে গেছে। ফলে বাবা-মায়েরা এসব প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে ভর্তি করাতে চান না। এছাড়া ঢাকায় অন্য মাধ্যমের বিদ্যালয়ের তুলনায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা কম। তারা যে শিক্ষার্থীদের প্রতি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের মতো যত্নশীল হবেন বা কোনো শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়লে আলাদাভাবে অতিরিক্ত সময় দেবেন এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ঢাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে হলে অবশ্যই এ জায়গাগুলোয় উন্নতি করতে হবে। একই সঙ্গে অপরিকল্পিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা বন্ধ করতে হবে।’
প্রাথমিক শিক্ষা পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ঢাকা জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় প্রথম শ্রেণীতে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৬ জন। ২০২২ সালে এসব শিক্ষার্থী দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু দেখা যায় ২০২২ সালে দ্বিতীয় শ্রেণীতে মোট শিক্ষার্থী ছিল ৫৯ হাজার ৬২৫ জন আর ২০২৩ সালে তৃতীয় শ্রেণীতে ৫২ হাজার ৪৯৯ জন। প্রাথমিক শিক্ষা পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে যতজন শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিল তাদের মধ্যে ৭৪ হাজার ৭৭ জনই ঝরে পড়েছে। হার ধরলে যা প্রায় ৫৮ দশমিক ৫২ শতাংশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঢাকাসহ সারা দেশেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে ঢাকায় এ প্রবণতা চোখে পড়ার মতো। এর একটি বড় কারণ ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বেশির ভাগ জরাজীর্ণ ভবনে, নামমাত্র সুযোগ-সুবিধায় চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস ও পড়ানোর ধরন সচেতন অভিভাবকের চাহিদা পূরণে সক্ষম নয়। অন্যদিকে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোয় সুযোগ-সুবিধা বেশি। তারা অভিভাবকদের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম সাজায়। ফলে সামর্থ্যবানরা সন্তানের জন্য কিন্ডারগার্টেনকে বেছে নিচ্ছেন। মনে হয় শুধু দরিদ্ররাই সন্তানকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন।’
এ গবেষক আরো বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ২০২১ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে করোনার সময়ে অনেক কিন্ডারগার্টেন স্কুলসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনেক অভিভাবক আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। এসব কারণে অভিভাবকদের একটি অংশ তখন সন্তানদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে এসব শিক্ষার্থী আবার কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসাসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ায় শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে শুরু করে।’
অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম মনে করেন, যদি দীর্ঘমেয়াদে ঢাকার শিশুদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়মুখী করতে হয় তাহলে এ প্রতিষ্ঠানগুলোয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। ঢাকাকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে সেখানে অন্তত একটি মডেল বিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে। এ বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা কিন্ডারগার্টেনের তুলনায় উন্নত হবে। একই সঙ্গে মানসম্মত শিক্ষক ও যুগোপযোগী কারিকুলাম নিশ্চিত করতে হবে। এভাবে যদি কয়েকটি বিদ্যালয় গড়ে তোলা যায় এবং তারা অন্যদের তুলনায় ভালো ফলাফল করে তাহলে অভিভাবকরা সন্তানদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিতে উৎসাহিত হবেন।
করোনা-পরবর্তী ২০২১ সালে কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসাসহ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে প্রাথমিক শিক্ষা পরিসংখ্যানেও। বিশেষত এনজিও লার্নিং সেন্টার, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, উচ্চ মাদ্রাসার সঙ্গে সংযুক্ত প্রাথমিক শাখা ও কিন্ডারগার্টেন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। ২০২০ সালের শিক্ষা পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী ওই বছর দেশে ৯ হাজার ৫৯২টি এনজিও লার্নিং সেন্টার, ৫ হাজার ৮৮২টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, ৭ হাজার ১৯৮টি উচ্চ মাদ্রাসার সঙ্গে সংযুক্ত প্রাথমিক শাখা এবং ২৯ হাজার ৮৯৭টি কিন্ডারগার্টেন ছিল। ২০২১ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮৩৯টি, উচ্চ মাদ্রাসার সঙ্গে সংযুক্ত প্রাথমিক শাখা ৩ হাজার ৫৩৪টি, কিন্ডারগার্টেন ২৮ হাজার ১৯৩টি। এই এক বছরে এনজিও লার্নিং সেন্টারের সংখ্যা কয়েক হাজার কমে যায়। ২০২১ সালে সারা দেশে উচ্চ মাদ্রাসার সঙ্গে সংযুক্ত প্রাথমিক শাখায় ৫০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রায় ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং কিন্ডারগার্টেনে ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থী হ্রাস পায়।
প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে গঠিত পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার সচ্ছল অভিভাবকরা সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন না। তারা কিন্ডারগার্টেন এবং ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়কে বেছে নিচ্ছেন। আর যাদের আর্থিক সক্ষমতা নেই তারা যাচ্ছেন সরকারি বিদ্যালয়ে। সচ্ছল অভিভাবকদের সরকারি প্রাথমিকে সন্তানদের ভর্তি না করানোর কারণ হতে পারে এ বিদ্যালয়গুলোর জরাজীর্ণ অবকাঠামো, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা জেলায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধিক্য রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকরা তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পান। তবে দুই বছরের ব্যবধানে প্রায় ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী কমে যাওয়া একটি বড় বিষয়। কেন সরকারি প্রাথমিকে ঢাকার অভিভাবকরা সন্তানদের পড়াচ্ছেন না সেটি শনাক্ত করতে সরকারের গবেষণা করা উচিত এবং কারণগুলো শনাক্ত করে সমাধানে পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’
প্রাথমিক শিক্ষা পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হার বিবেচনায় দেশের জেলা শহরগুলোর মধ্যে ঢাকায়ই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিকে পড়ে। ঢাকার পরে সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে গাজীপুর জেলায়। গাজীপুরে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। এছাড়া অবশিষ্ট ৬২টি জেলার সবগুলোতেই প্রাথমিক পর্যায়ের মোট শিক্ষার্থীর ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আফটার স্কুল প্রোগ্রামের কথা বলছি। কর্মজীবী মায়েদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। যেমন গাজীপুরে গেলে দেখা যায় সেখানে গার্মেন্টসের আশপাশে অনেক হেফজখানা রয়েছে। শ্রমিকরা তাদের সন্তানদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে না দিয়ে এখানে দিচ্ছেন। কারণ তিনি যতক্ষণ কাজে থাকেন তার সন্তান এখানে নিরাপদ থাকে। এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলও চালু করা যায়নি। আবার অনেক জায়গায় দেখা যায়, সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকরা কোচিং ব্যবসায় জড়িত এবং শিক্ষার্থীদের ভালো ফল করতে কোচিংয়ে ভর্তি হতে হচ্ছে। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আপাতদৃষ্টিতে খরচ কম হলেও কোচিংয়ের কারণে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণেও অনেক অভিভাবক সরকারি প্রাথমিকে সন্তানকে পড়াতে চান না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বাড়াতে হলে এসব সমস্যা দূর করতে হবে। আফটার স্কুল প্রোগ্রাম, মিড ডে মিলের মতো বিষয়গুলো চালু করতে হবে, বাজেট বাড়াতে হবে, উপবৃত্তি বাড়িয়ে অন্তত ৫০০ টাকা করতে হবে এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে কোচিং বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।’
ঢাকা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ বলেন, ‘বর্তমানে অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়ানোর একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থী কমার এটাও একটা বড় কারণ। এছাড়া অবকাঠামোগত সমস্যাসহ বেশকিছু বিষয় রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প চলছে। স্কুলগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটলে আশা করা যায় সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমবে এবং শিক্ষার্থী ভর্তি বৃদ্ধি পাবে।’