নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি শেষে নারায়ণগঞ্জে রফতানিমুখী বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা চালু হলেও শ্রমিক সংকটে অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রণোদনার ৬৫ শতাংশ টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে পাওয়ার পর নানা অজুহাতে কাজে যোগ দিচ্ছেন না শ্রমিকরা। গতকাল দুপুরে নগরীর তল্লা এলাকায় রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পপ্রতিষ্ঠান মডেল গ্রুপের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
শিল্প মালিকরা বলছেন, শ্রমিকদের কেউ কেউ বেতন বুঝে নিয়ে অন্য পেশায় কাজ করে অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নিয়েছেন। এ অবস্থায় কারখানা টিকিয়ে রাখতে শ্রম আইন অনুযায়ী স্বল্প সময়ে নানা জটিলতার কারণে শ্রমিক ছাঁটাই করে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দিতে পারছে না অনেক প্রতিষ্ঠান।
সংবাদ সম্মেলনে মডেল দ্য ক্যাপিটাল গার্মেন্টসের উপমহাব্যবস্থাপক অনুপম কুমার সাহা জানান, ছুটি শেষ হওয়ার পর এ প্রতিষ্ঠানের চারটি গার্মেন্টস কারখানায় ১০ হাজার শ্রমিকের মধ্যে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজে যোগদান করেননি। এ শ্রমিক সংকটের কারণে কারখানাগুলোয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদেশী বায়ারদের অর্ডার অনুযায়ী শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে বায়াররা বিমুখ হয়ে অর্ডার বাতিল করলে গার্মেন্টস শিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এতে কোটি কোটি ডলারের রফতানি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তাদের।
দেশের পোশাক কারখানার রফতানি খাত সচল রাখতে শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক কাজে যোগদান করার ব্যাপারে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানান তারা।