‘সাদা পতাকা’ কাণ্ডে বিদেশী বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে ভুল বার্তার শঙ্কা

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রিয় দলের পতাকা টাঙানোর প্রতিযোগিতা দেখা যায়। এটি কয়েক দশক ধরেই একটি সাধারণ চিত্র।

তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভিন্ন রকম এক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন মূল সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় আরবি হরফে কালিমাখচিত বিশেষ ডিজাইনের বিপুলসংখ্যক সাদা পতাকা টাঙানো হয়েছে, কোথাও হয়েছে শোডাউন। এ পতাকা টাঙানো বিষয়ে বিভিন্ন ভিডিও ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশ্বকাপের ডামাডোলে এ ‘সাদা পতাকা’ প্রদর্শন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন নানামুখী আলোচনা চলছে, তেমনি তৈরি হয়েছে বিতর্কও। পতাকা টাঙানোয় সংশ্লিষ্টদের দাবি, এগুলো কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা গোষ্ঠীর পতাকা নয়; বরং ইসলামের কালিমাসংবলিত একটি নিশান। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ী নেতাদের অনেকে মনে করছেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বিশেষ ডিজাইনের পতাকা বা প্রতীক ভুল বার্তা দিতে পারে। তাদের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ও গণমাধ্যমে এটি বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত প্রতীকের সমার্থক হিসেবে বিবেচিত ও উপস্থাপিত হতে পারে। আর সেক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের ভাবমূর্তি, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও প্রবাসী শ্রমবাজারে।

গত ১৭ জুন রাতে রাজধানীর শনির আখড়ায় একদল তরুণ যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের লোহার রেলিংয়ে সারিবদ্ধভাবে কালিমাখচিত সাদা-কালো পতাকা টাঙিয়ে দেন। এনামুল হাসান নামে একজন যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার থেকে ফেসবুক লাইভে এসে এসব পতাকা খুললে কঠিন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সাদা পতাকা টাঙানো হয়েছে। সাভার, নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, চট্টগ্রাম, নেত্রকোনা, যশোর, ফরিদপুরসহ দেশের আরো কয়েকটি এলাকায় বিশেষ নকশার এ পতাকা টাঙানো হয়েছে। অনেক এলাকায় আরবি হরফে কালিমাখচিত সাদা পতাকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নামানো হলেও কিছু সময় পর পুনরায় পতাকা টাঙানো হচ্ছে। পতাকা টাঙানো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিডিও বার্তাও রয়েছে। তাদের দাবি, কালিমাখচিত সাদা পতাকা ইসলামের নিশান হিসেবেই ব্যবহার করা হচ্ছে, যার সঙ্গে দেশী-বিদেশী কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের সম্পর্ক নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাচীন থেকে আধুনিক বিশ্বে প্রতীকের ব্যবহার সবসময়ই বিভিন্ন ধরনের বার্তা দেয়। সমর্থন প্রকাশ করতে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীককে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা অনুসারীরা ব্যবহার করতে পারেন। তাই সাদা পতাকার বিষয়টিকে শুধু স্থানীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করার সুযোগ নেই। আর যদি তা কোনো বিশেষ আন্তর্জাতিক চরমপন্থী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত প্রতীকের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে বিশ্বজুড়ে অপপ্রচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সামাজিক সহনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ আস্থাকে অক্ষুণ্ন রাখা রাষ্ট্র, সমাজ এবং সব অংশীজনের যৌথ দায়িত্ব। এমন কোনো কর্মকাণ্ড, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভুল বার্তা দেয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে সংবেদনশীল ও বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এসব বিষয়ে সতর্ক হতে পারলে ভালো। যে দেশের খেলা হচ্ছে, সেই দেশের পতাকা ওড়ানো এক বিষয়। খেলাকে উপলক্ষ করে অন্য পতাকা ওড়ানো হলে সেটা কেন করা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। এগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে “‍জঙ্গি” ধারণার কথাও চিন্তা করতে পারে। এটা নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্য বা হইচই করলেও উল্টো ফল হতে পারে। আমার মনে হয়, সরকারকে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে হ্যান্ডেল করতে হবে।’

‘সাদা পতাকা’ হাতে গত শুক্রবার তৌহিদি জনতার ব্যানারে শেরপুরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয় ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে কোনো চিহ্নকে শুধু নিজস্ব ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। একটি প্রতীক যদি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংস বা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো গোষ্ঠীর ব্যবহৃত প্রতীকের সঙ্গে দৃশ্যগতভাবে মিলে যায়, তাহলে তা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরির ঝুঁকি থেকেই যায়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সম্প্রতি ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত যিনি ভারতে রয়েছেন, তিনি বলেছেন যে বাংলাদেশে নাকি হামাসের উত্থান হচ্ছে। বাস্তবে আপনি-আমি সবাই জানি, এটা অ্যাবসলিউটলি রং (ভুল) স্টেটমেন্ট। বাস্তবে এটা মোটেই নয়। তবে আমাদের কিছু লোককে অতি উৎসাহী হতে দেখা যাচ্ছে। আমি একটা ভিডিও দেখেছি, যেখানে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেলে করে দলে দলে মানুষ যাচ্ছিল। প্রতিটি মোটরসাইকেলের পেছনে একজন একটি পতাকা ধরে ছিল। সেই পতাকায় আমাদের কালিমা লেখা। এ পতাকা এভাবে প্রদর্শন করলেই যে আমরা হামাস—সেটা সত্য নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘একই সময়ে জনগণকে এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে আমাদের এমন কিছু করা উচিত নয়, যেটা মিস-রিপোর্টিং হয়ে আমাদের দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। যারা এ কাজগুলো করছেন তারা কিন্তু না বুঝেই দেশের ক্ষতি করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিদেশী বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের ওপর প্রভাব ফেলবে। দেশ ও জাতির জন্য এমন কোনো কিছু করা উচিত নয়, যাতে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। আমাদের যারা রেমিট্যান্স যোদ্ধা আছেন, তারাও যেন এ ধরনের কিছু না করেন। সরকারেরও এ বিষয়ে সজাগ হওয়া উচিত। যেহেতু এ বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে অহেতুক মিস-রিপোর্টিং এবং মিস-রিপ্রেজেন্টেশন হচ্ছে।’

গত দুই দশকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে ‘উগ্রবাদ’ একটি সংবেদনশীল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। অনেক দেশ বিনিয়োগ, শ্রম অভিবাসন এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এ ইস্যুকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত কোনো ঘটনা বা প্রতীকের প্রকাশ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হলে তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই একটি উদার, অসাম্প্রদায়িক ও অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। তৈরি পোশাক শিল্প, রেমিট্যান্স আনা প্রবাসী কর্মীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এমন সময়ে বিশেষ ডিজাইনের ‘সাদা পতাকা’ দেশের ব্র্যান্ডিং বা ইমেজ নিয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে ধর্মীয় প্রতীক ও পরিচয়কে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য প্রচারণা, শোডাউন ও সমাবেশ হচ্ছে, তা স্বাভাবিকভাবেই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিষয়টি আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। এ অবস্থায় এমন কোনো কর্মকাণ্ড, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে বিভ্রান্তি বা নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিতে পারে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এ অধ্যাপক আরো বলেন, ‘সমাজে বিদ্যমান বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে কোনো গোষ্ঠী যদি অসহিষ্ণুতা বা উগ্রতার রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যখন বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেরও নজরে এসেছে, তখন রাষ্ট্রের অবস্থান হওয়া উচিত স্পষ্ট ও নীতিনির্ভর।’

ব্যবসায়ী নেতাদের একটি অংশও তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক পরিবেশ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। নাম প্রকাশ না করে একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ নিয়ে অনেক দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। একটি নেতিবাচক বার্তা বা বিতর্ক অনেক সময় বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশ যখন নতুন বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করছে, তখন এ ধরনের বিতর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।’

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় ভুল বার্তা যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসরে রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। অনেকে মনে করতে পারেন, বাংলাদেশ “‍ফান্ডামেন্টালিজম”-এর দিকে এগোচ্ছে কিনা! বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্ব এ ধরনের বিষয় ইতিবাচকভাবে নেয় না। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় অংশই পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে। তাই ব্যবসায়িক স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।’

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশী বিনিয়োগ কেবল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে জড়িত থাকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন। কোনো দেশের সামাজিক পরিবেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলে বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নিতে পারেন।

এ মুহূর্তে দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছেন। আর এ কর্মীরা গত অর্থবছরে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার ছয়দিন আগেই ২৪ জুন পর্যন্ত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩৫ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এটিই সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। বাংলাদেশের অর্থনীতির যতগুলো সূচক রয়েছে, তার মধ্যে এ মুহূর্তে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি (প্রায় ১৮%) প্রবাসী আয়ে।

বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী কর্মী মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন। প্রতিদিনই নতুন কর্মীরা বিদেশ যাচ্ছেন। বাংলাদেশী কর্মীদের গন্তব্য এসব দেশ নিরাপত্তা ও উগ্রবাদবিরোধী নীতিতে কঠোর। শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এরই মধ্যে দক্ষ ও নিয়মতান্ত্রিক শ্রমশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত কোনো ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হলে তা বিদেশী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে অযাচিত সংশয় তৈরি করতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ বণিক বার্তাকে বলেন, এ ধরনের তৎপরতা ‘উগ্রবাদী ট্রেন্ড’ হিসেবে বাইরের দেশে পরিচিত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘উগ্রবাদের এ ট্রেন্ড বা তৎপরতাটি বেশ সংবেদনশীল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণের জায়গাটা আরো শক্তিশালী করা জরুরি।’

আরবি হরফে কালিমাখচিত সাদা পতাকা প্রদর্শনের বিষয়টি নজরে আসার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশেষ এ সাদা পতাকার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এটা শুধু ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে, নাকি এর পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। এখানে ভিন্ন উদ্দেশ্যের কোনো তথ্যপ্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দেশজুড়ে সাদা পতাকা ওড়ানো বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। একাধিকবার চেষ্টা করেও পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আরও