পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় কোরবানির পশুর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হলেও পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা।

পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, কোরবানিযোগ্য গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া কেনাবেচার জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৯টি স্থায়ী ও ১৩টি অস্থায়ীসহ মোট ৩২টি হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া খামার ও অনলাইন প্লাটফর্মেও পশু কেনাবেচা হবে। তবে হাটগুলো এখনো পুরোদমে জমে ওঠেনি।

সম্প্রতি গাইবান্ধার দাঁড়িয়াপুর, লক্ষ্মীপুর, সাদুল্লাপুর, ধাপেরহাট, মাঠেরহাট ও ভরতখালীসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, পশু কেনাবেচার জন্য নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরির কাজ চলছে। এসব হাটে ষাঁড়, বলদ, মহিষ, গাভী, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কেনাবেচা হবে। হাট ইজারাদারদের সূত্রে জানা গেছে, আর কয়েক দিন পরই বাজার পুরোদমে জমে উঠবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০টি। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় ২৯ হাজার ৮৬৭টি পশু বেশি রয়েছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খামার ও বাড়িতে চলছে পশুর নিবিড় পরিচর্যা। খামারিরা জানান, প্রাকৃতিক উপায়ে পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে স্থানীয় খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলেও আশঙ্কা করছেন।

খামারিরা জানান, পশুখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। আগে যে খাবার ৪০ টাকায় কিনতাম, এখন সেটি ৬০ টাকা। আবার ২০ টাকার পণ্য এখন ৩০ টাকা। এতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুণ কুমার দত্ত বণিক বার্তাকে জানান, এবার সদর উপজেলায় ৩১ হাজার ২১১টি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় ৬ হাজার ৯৬২টি, বলদ ৪৬৭টি, গাভী ৪ হাজার ৯২, মহিষ ১৯, ছাগল ১৮ হাজার ৪১৫ এবং ভেড়া ১ হাজার ২৫৬টি। খামারিদের সতর্ক করা হয়েছে, তারা যেন কোনো পশুকে মোটাতাজা করার জন্য স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ প্রয়োগ না করেন।

তিনি আরো জানান, তাপপ্রবাহ চলমান থাকায় প্রচণ্ড গরমে পশুগুলো হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সেজন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগ সার্বক্ষণিক সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রাজ্জাক বণিক বার্তাকে জানান, খামারিরা যাতে ভালো দাম পান, সে বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

আরও