প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের

প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ চায় বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন

প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা চালু ও জেলা পরিষদ বাতিলের সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। একই সঙ্গে সরকারের বিদ্যমান ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও ৬১টি বিভাগকে ২৫টি মন্ত্রণালয় ও ৪০টি বিভাগে পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে গতকালই এসব সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী।

একই দিনে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন কমিশন প্রধান আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান। প্রতিবেদনে রাজধানীর বাইরে প্রতিটি বিভাগীয় সদরে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রপতি বা নির্বাহী বিভাগের ক্ষমা প্রদর্শনের একচ্ছত্র ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশে দেশের পুরনো চার বিভাগের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী) সীমানাকে চারটি প্রদেশে বিভাজনের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে কমিশনের বক্তব্য হলো, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সরকারের কার্যপরিধি বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান প্রশাসনিক ও স্থানীয় সরকার কাঠামো তা নির্বাহের জন্য যথেষ্ট বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। আবার এককেন্দ্রিক ব্যবস্থায় মন্ত্রণালয় পর্যায়ে খুঁটিনাটি অনেক কাজ সম্পাদন করতে হয়। দেশে বিশাল জনসংখ্যার পরিষেবা ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে দেশের পুরনো চারটি বিভাগের সীমানাকে চারটি প্রদেশে বিভক্ত করে প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। এর ফলে এককেন্দ্রিক সরকারের পক্ষে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ হ্রাস পাবে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার ওপরও চাপ কমবে।

সুপারিশে রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রিত ‘ক্যাপিটাল সিটি গভর্নমেন্ট বা ‘রাজধানী মহানগর সরকার’ গঠনের প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়, রাজধানী ঢাকা মহানগরীর জনসংখ্যা ও পরিষেবার ব্যাপ্তির কথা বিবেচনায় রেখে নয়াদিল্লির মতো ফেডারেল সরকার নিয়ন্ত্রিত ‘ক্যাপিটাল সিটি গভর্নমেন্ট বা ‘রাজধানী মহানগর সরকার’ গঠনের সুপারিশ করা হলো। অন্যান্য প্রদেশের মতো এখানেও নির্বাচিত আইনসভা ও স্থানীয় সরকার থাকবে। ঢাকা মহানগরী, টঙ্গী, কেরানীগঞ্জ, সাভার ও নারায়ণগঞ্জকে নিয়ে ‘ক্যাপিটাল সিটি গভর্নমেন্টের’ আয়তন নির্ধারণ করা যেতে পারে।

জেলা পরিষদ ব্যবস্থা বাতিলের সুপারিশ করে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, স্থানীয় সরকারের একটি ধাপ হিসেবে জেলা পরিষদ বহাল থাকবে কিনা, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কখনই নাগরিকদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হননি। কিছু জেলা পরিষদ বাদে অধিকাংশেরই নিজস্ব রাজস্বের শক্তিশালী উৎস নেই। ফলে অধিকাংশ জেলা পরিষদ আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই জেলা পরিষদ বাতিল করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে জেলা পরিষদের সহায়-সম্পদ প্রস্তাবিত সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক সরকারকে হস্তাস্তর করা যেতে পারে।

অন্যদিকে পৌরসভা সম্পর্ক বলা হয়, গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় সরকার হিসেবে এটিকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। পৌরসভা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন ওয়ার্ড মেম্বারদের ভোটে। কারণ চেয়ারম্যানরা একবার নির্বাচিত হলে মেম্বারদের আর গুরুত্ব দেন না।

একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার হিসেবে উপজেলা পরিষদকে আরো শক্তিশালী করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদটি বাতিল করা যেতে পারে বলে মনে করছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। এছাড়া উপজেলা পরিষদকে আরো জনপ্রতিনিধিত্বশীল করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের এক-তৃতীয়াংশকে আবর্তন পদ্ধতিতে পরিষদের সদস্য হওয়ার বিধান করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে উপজেলা পরিষদের অধীনে ন্যস্ত না রেখে তাকে শুধু সংরক্ষিত বিষয় ও বিধিবদ্ধ বিষয়াদি যেমন আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ইত্যাদি দেখাশোনার ক্ষমতা দেয়ার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রাখতে এমন প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্যরা। এছাড়া একজন সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার অফিসারকে উপজেলা পরিষদের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

সুপারিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমি ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করার জন্য উপজেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর একজন ভূমি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি করা যেতে পারে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কর্মরত কানুনগোদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অধীনে তাদের পদোন্নতি ও পদায়ন করা যেতে পারে। এ ধরনের পদোন্নতির পরীক্ষা পিএসসির মাধ্যমে হতে হবে।

বিদ্যমান বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারকে ‘বাংলাদেশ প্রশাসনিক সার্ভিস’ করার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। কমিশনের ভাষ্যমতে, এ ক্যাডার সার্ভিসের পদগুলো মাঠ প্রশাসনেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আর সচিবালয় চলবে সব সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিসের (এসইএস)’ কর্মকর্তাদের দিয়ে। এখানে উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত পদের কর্মকর্তারা থাকবেন। ‘এসইএসে’ উপসচিব পদে প্রশাসনের জন্য ৫০ শতাংশ এবং অন্য সার্ভিসের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা রাখা হবে।

২০১৮ সালের সিভিল সার্ভিস অ্যাক্টের ধারা ৪৫ অনুসারে, সরকার ইচ্ছা করলে ২৫ বছর চাকরির পর কোনো কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক অবসর দিতে পারে। নতুন সুপারিশে এ বিধান বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে চাকরির ১৫ বছর পূরণ হলে কোনো সরকারি কর্মচারী অবসর নিতে চাইলে সরকার তা মঞ্জুর করতে পারবে বলে কমিশনের সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশন সরকারি কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না বলেও সুপারিশ করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি সার্ভিসের অধীনে থাকা সমিতিগুলোর কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা বা দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া সিনিয়র সচিব পদটি বিলোপেরও সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিটি। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব ও সচিব পদে কোনো বেতন গ্রেড বা স্কেল না রেখে সরকার তাদের বেতন-ভাতা ও সুবিধাদি নির্ধারণ করবে বলেও সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়গুলোকে পুনর্বিন্যস্ত করা হলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে একাধিক বিভাগ সৃষ্টি হবে। তাদের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য সেসব মন্ত্রণালয়ে কর্মরত একজন সচিবকে মুখ্য সচিব (প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি) হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করা হলো। বর্তমান সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে এ পদে পদায়ন করা যেতে পারে। বর্তমান ‘সিনিয়র সচিব’ নামকরণ বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হলো। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব ও সচিব পদে কোনো বেতন গ্রেড বা স্কেল থাকবে না। সরকার তাদের বেতন-ভাতা ও সুবিধাদি নির্ধারণ করবে।

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয়া শেষে কমিশন প্রধান মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা স্বল্পমেয়াদি কিছু সুপারিশ করেছি যেগুলো ছয় মাসের মধ্যে করা যাবে, মধ্যমেয়াদি কিছু সুপারিশ করেছি যেগুলো এক থেকে দুই বছরের মধ্যে করা যাবে। দীর্ঘমেয়াদি কিছু সুপারিশ আছে যেগুলো পরবর্তীকালে ক্রমান্বয়ে দেখা যেতে পারে।’

জনপ্রশাসন সংস্কারকে একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া আখ্যায়িত করে সাবেক এ আমলা বলেন, ‘এজন্য আমরা সুপারিশ করেছি একটা স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের জন্য। একই সঙ্গে এ কমিশন যাতে এবারের কমিশনগুলোর রিপোর্ট বাস্তবায়ন তদারকি করতে পারে। জনপ্রশাসনে একটা উদ্ভাবনী ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। সেখানে গতানুগতিকের পরিবর্তে নতুন নতুন চিন্তাভাবনা নিয়ে আসবে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটা আচরণ বিধিও প্রণয়ন করা দরকার। ব্যবসায়ীদের দিক থেকে একটা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দিকে জোর দিয়েছেন। যাতে করে ট্রেড রিলেটেড পরিষেবাগুলো এক জায়গা থেকে পাওয়া যায়।’

বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাব সংস্কার কমিশনের: বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রতিবেদনে সংবিধানের বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধনে প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া এতে রাজধানীর বাইরে প্রতিটি বিভাগীয় সদরে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতি বা নির্বাহী বিভাগের ক্ষমা প্রদর্শনের একচ্ছত্র ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

এর মধ্যে বিচার বিভাগসংশ্লিষ্ট সংবিধান-সংশোধনীসংক্রান্ত অংশে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি এবং অন্য বিচারকদের নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবিধানের বিধানগুলো সংশোধন করা প্রয়োজন, যার মধ্যে রয়েছে: অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) (রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাকে সীমিত করে নিয়োগ কমিশনকে ক্ষমতায়িত করা), ৫৫(২) (প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা থেকে প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারকদের নিয়োগের বিষয়কে পৃথক করা), ৯৪ (বিচারকদের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির মতকে প্রাধান্য দেয়া এবং আপিল বিভাগের ন্যূনতম বিচারক সংখ্যা ৭ (সাত) জন করা), ৯৫ (রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারককেই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন, অর্থাৎ, প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতির কোনো স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা থাকবে না বা নির্বাহী বিভাগের কোনো প্রভাব থাকবে না।

বিচারক হিসেবে নিয়োগের যোগ্যতা পরিবর্তন বিষয়ে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘প্রার্থীকে কেবল বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং তার বয়স অন্যূন ৪৮ বছর হতে হবে। বিচারকদের অবসরের বয়স বিদ্যমান ৬৭ বছরের পরিবর্তে ৭০ করা প্রয়োজন, যা ভবিষ্যতে নিযুক্ত বিচারকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। বিদ্যমান ১০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতার পরিবর্তে ১৫ বছরের পেশাগত বাস্তব অভিজ্ঞতার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা। সংবিধানে নতুন বিধান ৯৫ক অনুচ্ছেদ সংযোজনের মাধ্যমে বিচারপতি নিয়োগ কমিশনের বিধান করা।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠার জন্য ৬৪ক অনুচ্ছেদ সংযোজনসহ বিচার বিভাগকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিধানাবলি সংশোধনে প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি বা নির্বাহী বিভাগের প্রভাব না রাখা, জুডিশিয়াল পে সার্ভিসকে স্থায়ীরূপ দেয়া এবং প্রতি তিন বছর পর পর সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের বিচারকদের সম্পত্তির বিবরণ সুপ্রিম কোর্টে প্রেরণ ও ওয়েবসাইটে জনসাধারণের সামনে প্রকাশের সুপারিশ করেছে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন।

বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয়া শেষে এর সারসংক্ষেপ তুলে ধরে কমিশনের সদস্য বিচারপতি এমদাদুল হক বলেন, ‘৩৫২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য ৩২টি অধ্যায়ে সার্বিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। তিনি বলেন, প্রধান দিকটা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক কিছু বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের সাংবিধানিক অবস্থা নিয়ে বেশকিছু অ্যামেন্ডমেন্টের পরামর্শ আমরা দিয়েছি স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য।’

নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে বেশকিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানান বিচারপতি এমদাদুল হক। বলেন, ‘যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে, দক্ষতার সঙ্গে এবং প্রশ্নাতীতভাবে বিচার বিভাগ ও বিচার বিভাগসংশ্লিষ্ট যারা সহায়ক গোষ্ঠী রয়েছেন, তারা কাজ করতে পারেন, সেজন্য সংস্কার সুপারিশ করেছি।’

আরও