নাটোরে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৪৭

মঙ্গলবার রাত থেকেই শহরের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউতলা ও আশপাশের এলাকার অনেকেই ডায়রিয়া আক্রান্ত হতে শুরু করেন। রাতেই ৩০-৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫ জনে। আর দুপুর ১২টা পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৭ জনে।

নাটোর শহরে হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব। পৌর এলাকার উত্তর পটুয়াপাড়া ও ঝাউতলাসহ দুই নম্বর ওয়ার্ডের আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে পানিবাহিত এ রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শিশুসহ ১৪৭ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, পৌরসভার সরবরাহ করা পানি পান করেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, মঙ্গলবার রাত থেকেই শহরের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউতলা ও আশপাশের এলাকার অনেকেই ডায়রিয়া আক্রান্ত হতে শুরু করেন। রাতেই ৩০-৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫ জনে। আর দুপুর ১২টা পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৭ জনে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬৬ জন, নারী ৫৫ জন ও ২৬ শিশু রয়েছে। হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা তুতলি খাতুন বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে ভাত খেয়ে শুয়ে পড়েছিলাম। মধ্যরাত থেকে বমি শুরু হয়। পরে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক জানান, ডায়রিয়া হয়েছে। সকাল থেকে দেখি আমাদের এলাকার অনেকেই ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন।’

একই এলাকার বাসিন্দা নাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় অন্তত দেড় থেকে দুইশ মানুষ ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছেন। খাবার পানি থেকেই এ সমস্যা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কেননা কয়েক বছর আগেও এ সমস্যা হয়েছিল। পানির লাইনগুলো অপরিষ্কার, পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। আমরা এ সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান চাই।’

এসব বিষয়ে নাটোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হক বলেন, ‘পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ডায়রিয়া রোগী বাড়তে শুরু করেছে। আমরা ওই এলাকায় মাইকিং করেছি, যাতে আগামী দুই-একদিন পানির বিষয়ে সতর্ক থাকে। পানি পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’

নাটোরের সিভিল সার্জন মুক্তাদির আরেফিন বলেন, ‘ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইনসহ ওষুধ মজুদ রয়েছে। এখন হাসপাতালে ১২৮ জন ভর্তি রয়েছেন। অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।’

এদিকে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি আক্রান্ত রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসাসেবা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

হাসপাতাল পরিদর্শনে শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্থানীয়দের পরামর্শ দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র ফুটানো পানি পান করতে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে। এ ঘটনায় পৌরসভার কোনো গাফিলতি রয়েছে কিনা- সেটি খতিয়ে দেখতে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।’

আরও