দীর্ঘ দুই দশক সংস্কার না হওয়ায় কচুরিপানা পচে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে লেকের পানি। এতে অঞ্চলটিতে বিশুদ্ধ পানি সংকটের পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আশির দশকে লবণাক্ত পানির প্রবেশ ঠেকাতে পশুর নদীর শাখা খালে বাঁধ দিয়ে লেকটি তৈরি করা হয়। একসময় ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮৫ মিটার প্রস্থের এ লেকের পানি তিনটি ওয়ার্ডের কয়েক হাজার মানুষ গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করতেন। কিন্তু বর্তমানে লেকের দুই পাড় দখল ও ভরাট হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বসতবাড়ির বর্জ্য ও কচুরিপানায় পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পচা পানির কারণে এলাকায় বেড়েছে মশা ও সাপের উপদ্রব।
দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুদীপ বালা বলেন, দূষিত পানি ব্যবহারে চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও টাইফয়েডের মতো রোগ ছড়াতে পারে। নিরাপদ থাকতে এ পানি ব্যবহার না করাই ভালো।
স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গৌতম সাহা জানালেন, চৈত্র-বৈশাখ মাসে যখন পুকুর শুকিয়ে যায়, তখন এ লেকই ছিল মানুষের ভরসা। এখন সংস্কারের অভাবে সে সুযোগ বন্ধ।
বর্তমানে লেকটি পুনঃখনন ও আধুনিকায়নের দাবি জোরালো হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, লেকটি সংস্কার করে পানির ফোয়ারা, বসার বেঞ্চ ইত্যাদি স্থাপন করা হলে এটি একটি সুন্দর বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।
তবে প্রশাসনিক জটিলতা এ কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু জানিয়েছেন, লেকটি মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে। তাই পৌরসভার উদ্যোগে সংস্কার সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহির মাজহার জানান, আপাতত কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দ্রুত লেকটি পুনঃখননের পরিকল্পনাও রয়েছে।