নানামুখী সংকটে যশোর কারাগার

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৯১৯ জন। অথচ ৪ নভেম্বর পর্যন্ত কারাগারে বন্দি ছিল ১ হাজার ৯৭০ জন।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৯১৯ জন। অথচ ৪ নভেম্বর পর্যন্ত কারাগারে বন্দি ছিল ১ হাজার ৯৭০ জন। এছাড়া রয়েছে জনবল সংকট। কারাগারে অনুমোদিত ৪৯৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২৭৫ জন। মশার উপদ্রব, পানির সংকট তো আছেই। কিছু বন্দির শরীরে চর্মরোগও দেখা দিয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, ধারণক্ষমতার চেয়ে বন্দি বেশি। জনবল ঘাটতির কারণে বাড়তি বন্দির চাপ সামলাতেও তাদের অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বন্দি ধারণক্ষমতা রয়েছে ১ হাজার ৯১৯ জন। ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বন্দি ছিল ১ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে নারী ৮৩ জন। পুরুষ ১ হাজার ৮৮৭ জন। তাদের মধ্যে কয়েদি রয়েছেন ৬৫৫ এবং হাজতি ১ হাজার ৩০৫ জন। গত ১০ দিনের ব্যবধানে নতুন করে বন্দির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪০০।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দি বেশি হলেও কিছু করার নেই। বন্দিদের মধ্যে চর্মরোগ রয়েছে। কারাগারে অনেক পুরনো পানির ট্যাংক ও পাইপ রয়েছে, যা দিয়ে ঠিকমতো পানি পাওয়া যায় না। সবসময় থাকে মশার উপদ্রব। পৌরসভাকে বললে তারা ওষুধ দেয়। না বললে আর দেয় না। কারা হাসপাতালে ৫৮ শয্যার বিপরীতে রোগী রয়েছেন ৩২। একজন নার্স, দুজন ফার্মাসিস্ট থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন শুধু একজন ফার্মাসিস্ট। চিকিৎসকরা নিয়ম করে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।’

কারাগারে বন্দির স্বজনের অভিযোগ, কারা হাসপাতাল একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসক চারজন খাতা-কলমে থাকলেও বাস্তবে আছেন দুজন। তাদেরও নিয়মিত পায় না বন্দিরা। যে কারণে সামান্য শারীরিক সমস্যা হলে তাদের নিয়ে যেতে হয় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে।

যশোর কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কারা হাসপাতালে দেড় মাস ধরে ওষুধ সংকট ছিল। সম্প্রতি আমরা ওষুধ পেয়েছি। এখানে বন্দিদের মধ্যে চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। কারা হাসপাতালে থাকা ওষুধে কাজ হয় না। এ কারণে বাইরে থেকে বন্দিদের ওষুধ কিনতে হয়েছে। তবে ওষুধের চাহিদাপত্র আমরা দিয়েছি। হাসপাতালে আমরা দুজন চিকিৎসক রয়েছি। অন্যান্য স্টাফ সংকটও রয়েছে এখানে।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একজন বন্দির জন্য কারাগারে ৩৬ ফুট জায়গা নির্ধারণ করা থাকে। তবে বন্দিদের কোনো খাট বা চৌকি দেয়া হয় না। তারা মেঝেতে কম্বল পেতে ঘুমানোর কারণে একজনের জায়গায় একের বেশি থাকতে পারেন। এছাড়া তাদের খাবারের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয় না।’

কারাগারে বন্দি বাড়ার কারণে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বন্দি বাড়লেও আমাদের জনবল তো বাড়ে না। আগে যারা আছেন, তারাই কাজ করছেন। তাই চাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। অতিরিক্ত বন্দির কারণে অনেক সময় নির্দিষ্ট কাজের বাইরেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রতিদিনই বন্দি আসেন, আবার অনেকে জামিনে মুক্ত হয়ে যান। বন্দিদের আসা-যাওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

আরও