সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রাম জেলায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ও উপজেলাগুলোয় কৃষিতে সর্বমোট ৩৯৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার
ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১৫টি উপজেলার মধ্যে মীরসরাই, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড,
লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশ উপজেলায় ফসলের বেশি ক্ষতি হয়েছে। এ সাত উপজেলায়
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ১ হাজার ৯২২ হেক্টর সবজি বাগান। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ
হয়েছে আউশ ও আমন খেত।
চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুচ
ছোবহান বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে বলেন, বন্যায় প্রাথমিক ভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে। এখন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা
অনুযায়ী প্রণোদনাসহ বিভিন্ন আর্থিক ও কৃষিজ বীজ-চারা এবং অন্যান্য সহযোগিতার পরিকল্পনা
রয়েছে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্যায় কৃষি খাতের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষি
বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের মীরসরাই, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান,
সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন উপজেলার মৎস্যচাষের পুকুর, দিঘী ও হ্যাচারির মাছ ভেসে গিয়ে ক্ষতি
হয়েছে ২৯০ কোটি টাকার। ৫ হাজার ৫৪১ হেক্টর জমির ১৬ হাজার ৮৬৪টি মাছ চাষের পুকুর ক্ষতিগ্রস্থ
হয়েছে। এতে ১৬ হাজার ৫৯৫ টন মাছ ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি ১৪ লাখ বিভিন্ন মাছের পোনা এবং
২ লাখ চিংড়ি পোনা ভেসে গিয়ে মৎস্য খাতের বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে
জেলা মৎস্য বিভাগ। এছাড়া বন্যায় চট্টগ্রামে প্রাণীসম্পদ খাতে ক্ষতি হয়েছে ২০ কোটি ৯৭
লাখ ২৬ হাজার টাকা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্যমতে, চট্টগ্রামে
উপজেলাগুলোর মধ্যে ৬০৫ কিলোমিটার সড়ক বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেছে। এসব সড়কের
১২৫টিরও বেশি ছোট-বড় সেতু ও কালভার্ট বন্যার পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সবচেয়ে
বেশি ক্ষতি হয়েছে ফটিকছড়ি ও মীরসরাই উপজেলায়। এছাড়াও হাটহাজারী, বাঁশখালী, রাউজান,
বোয়ালখালীসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি উপজেলার সড়ক বন্যার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ সড়কগুলো মেরামতে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে এলজিইডি
বিভাগ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র বণিক বার্তাকে বলেন, কয়েক দিনের
বন্যায় চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলার মৎস্য চাষীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা মাছের খামার ছাড়াও প্রায় ১৭ হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। যেসব
মৎস্যজীবি, খামারী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের প্রকৃত তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে
পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন সেভাবেই ক্ষতিগ্রস্থদের আর্থিক
সহযোগিতা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।