বেইলি রোডের গ্রিন কোজি ভবনে অগ্নিদুর্ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নগর ও পরিবেশবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, ‘এ দুর্ঘটনা অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ছাড়া কিছু নয়।’ গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ভবন বিপজ্জনকতায় আচ্ছন্ন নগরী: প্রেক্ষিতে করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি), বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বেলা) যৌথ উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাপার সহসভাপতি ও স্থপতি ইকাবাল হাবিব। প্রবন্ধে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে বাংলাদেশে নগরায়নের প্রবণতা বাড়ছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)-১১ অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, অভিঘাত–সহনশীল এবং টেকসই নগর ও জনবসতি গড়ে তোলার কথা বলেছে। কিন্তু এখনো আমরা একটি নিরাপদ ও অভিঘাত–সহনশীল নগরী গড়ে তুলতে পারিনি। নগরে সংঘটিত অগ্নিদুর্যোগ আজ বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একটি রেস্তোরাঁ স্থাপনে ১০টি সংস্থার প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন। এগুলো হলো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনাপত্তিপত্র, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেস্তোরাঁ লাইসেন্স, সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের লাইসেন্স নিবন্ধন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের দোকান লাইসেন্স, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ই-ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ফায়ার লাইসেন্স, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্র।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এসব ছাড়পত্র যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদারকি ছাড়াই প্রদান করা অথবা ছাড়পত্রহীনভাবে কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নিরুদ্বেগ থাকার কারণেই নগরে এসব ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতিহীনতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত ১১টি করণীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বাপা
সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাপার সহসভাপতি ড. আতিউর রহমান,
বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, অ্যাডভোকেট হাসানুল বান্না, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি)
সভাপতি, পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ
খান, পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, বাপার যুগ্ম সম্পাদক, অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান
মজুমদার, পরিকল্পনাবিদ সৈয়দ শাহরিয়ার আমিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাপা সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির।