বৈসাবী ঘিরে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ

আগামী ১২ এপ্রিল বৈসাবীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও এপ্রিলের শুরু থেকেই পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় উৎসবের আমেজ।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বৈসাবীকে ঘিরে পাহাড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। আজ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইনস্টিটিউট মাঠ প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী (৩-৯ এপ্রিল) বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু ও বিহু মেলা ২০২৫- এর উদ্বোধন করা হবে।

আজ বিকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইনস্টিটিউটের আয়োজেনে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ৭ দিনব্যাপী বিজু, সাংগ্রাই. বৈসুক, বিষু ও বিহু মেলার উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ সচিব) খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুনেল চাকমাসহ অন্য অতিথিরা থাকবেন।

আগামী ১২ এপ্রিল বৈসাবীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও এপ্রিলের শুরু থেকেই পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় উৎসবের আমেজ।

এর মধ্যে আজ ৩ এপ্রিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছে আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের বাদ্যবাজনা, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়া, খিয়ং, লুসাই, অহমিয়া, গুর্খা এবং ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন; ৪ এপ্রিল বিকেলে চাকমা ভাষা ও বর্ণমালাবিষয়ক প্রতিযোগিতা, ঘিলা খেলা (চাকমা), আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; ৫ এপ্রিল ঘিলা খেলা (তঞ্চঙ্গ্যা), ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি প্রতিযোগিতা, চাকমা নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; ৬ এপ্রিল মহিলাদের খেলাধুলা প্রতিযোগিতা, তঞ্চঙ্গ্যা নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; ৭ এপ্রিল শিশুদের প্রতিযোগিতা, আকর্ষণীয় খেলাধুলা - নাদেং, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; ৮ এপ্রিল- চাকমা ভাষা ও বর্ণমালাবিষয়ক প্রতিযোগিতা (উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শ্রেণি) ও ৯ এপ্রিল পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী পাচন রান্না প্রতিযোগিতা এবং রাঙ্গামাটির জনপ্রিয় ব্যান্ড শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বৈসাবী উৎসব পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় উৎসব হলেও একে পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের মিলনমেলা বলা চলে।

আগামী ১২ এপ্রিল পাহাড়ে বৈসাবী উৎসবের প্রথম দিন চাকমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর ফুল বিজু বৈসু কিংবা বিষু। এদিন তারা বন থেকে ফুল আর নিম পাতা সংগ্রহ করে ঘর সাজানোর পাশাপাশি গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সূচনা করেন।

১৩ এপ্রিল দ্বিতীয় দিন চৈত্র সংক্রান্তি। এ দিনকে বলা হয় মুল বিজু বৈসু বা বিষু। এদিন তারা ঘরে ঘরে ঐতিহ্যবাহী পাচনসহ অন্য খাবার রান্না করেন। আর ১৪ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলে মারমাদের জল কেলী উৎসব।

চৈত্র সংক্রান্তিতে পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করতে পাহাড়ে এখন বৈসাবী উৎসবের আমেজ বইছে। পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র-নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর এ উৎসব তিনটি আলাদা নামে হলেও সমতলের মানুষের কাছে তা বৈসাবী নামে পরিচিত।

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে পাহাড়ের গ্রামে গ্রামে উদযাপিত হবে বৈসাবী উৎসব, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

- বাসস

আরও