যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলার নিন্দায় ৩৯ নাগরিকের বিবৃতি

বিবৃতিতে বলা হয়, 'ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চালানো এ বর্বরতা অবিলম্বে বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ এ বর্বরতায় জড়িত সব যুদ্ধাপরাধীর দ্রুত বিচার করে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে কঠোর শাস্তি প্রদানের জোর দাবি জানাই'।

গত এক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনের নিরীহ বাসিন্দাদের ওপর ইসরায়েলের চালানো হামলায় তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের নাগরিক সমজ। আজ বুধবার (২৬ মার্চ) অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়। দেশের ৩৯ নাগরিক এতে স্বাক্ষর করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, '২০২৩ সাল থেকে টানা ১৮ মাস ধরে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাসহ আশপাশের এলাকায় সর্বাধুনিক প্রাণঘাতী মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে, সেখানে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজারের বেশি শিশু, বাকিরা সাধারণ নারী ও নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি। এছাড়া অন্তত আরো ১১ হাজার মানুষ ইসরায়েলি বোমায় ধংসপ্রাপ্ত অসংখ্য ইমারত ও স্থাপনার নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন। হামাস সদস্যরা সেখানে থাকতে পারে- শুধু এ অজুহাতে হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, শরণার্থী শিবির, জাতিসংঘের সাহায্য প্রকল্পের দফতর- এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে ইসরায়েল বোমা ফেলেনি বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেনি। ফলে পুরো ফিলিস্তিন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। তাদের এ ধ্বংসযজ্ঞ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হিটলারের নাৎসি বর্বরতা এবং জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমানবিক বোমা ফেলে যে অমানবিক নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, তার কথাই মনে করিয়ে দেয়'।

এতে আরো বলা হয়, 'যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি হলেও কার্যত ইসরায়েল তা মানছে না। এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েল নির্বিচারে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন যার অধিকাংশই শিশু। গাজা উপত্যকায় গত শুক্রবার তুরস্ক-প্যালেস্টাইন ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল ও সংলগ্ন একটি মেডিকেল বিদ্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এটি গাজায় ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসার জন্য একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল ছিল। এ ঘটনার পর ইসরায়েল দাবি করে, সেখানে হামাস থাকতে পারে এ তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী বুলডোজার চালিয়ে আরও আবাসিক ভবন আর কৃষিজমি ধ্বংস করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা। ইসরায়েল আরো দাবি করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব দেয়া গাজার বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে তার দেশ এবং এ এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় ইসরায়েল'।

এসব ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, 'যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেনসহ যে সব দেশ ইসরায়েলকে এ অমানবিক আক্রমণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে তাদের প্রতিও ধিক্কার জানাই। পাশাপাশি জাতিসংঘসহ শান্তির পক্ষে থাকা সব পরাশক্তি ও দেশকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চালানো এ বর্বরতা অবিলম্বে বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ এ বর্বরতায় জড়িত সব যুদ্ধাপরাধীর দ্রুত বিচার করে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে কঠোর শাস্তি প্রদানের জোর দাবি জানাই'।

বিবৃতিদাতারা হলেন ড. হামিদা হোসেন, সুলতানা কামাল, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, রাশেদা কে চৌধুরী, খুশী কবির, ড. ইফতেখারুজ্জামান, শামসুল হুদা, শিরীন প হক, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, ড. শহিদুল আলম, তাসলিমা ইসলাম, সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক ড. নোভা আহমেদ, অ্যাডভোকেট তবারক হোসেইন, শাহ-ই-মবিন জিন্নাহ, মো. নুর খান, অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক ড. খাইরুল চৌধুরী, অধ্যাপক ড. ফিরদৌস আজীম, অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন, অধ্যাপক ড. স্বপন আদনান, অধ্যাপক নায়লা জামান খান, রেজাউল করিম চৌধুরী, জাকির হোসেন, পাভেল পার্থ, রেহনুমা আহমেদ, কণ্ঠশিল্পী ফারজানা ওয়াহেদ সায়ান, লায়লা পারভীন, সায়দিয়া গুলরুখ, মনীন্দ্র কুমার নাথ, তাসনীম সিরাজ মাহবুব, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী, সাঈদ আহমেদ, হানা শামস আহমেদ ও মুক্তাশ্রী চাকমা।

আরও