চলতি বছরের ৩০ জুন চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত শেষ হয়েছে ৪০ শতাংশ। মাঝপথে এতে নির্মাণে ত্রুটি দেখা দেয়ায় সংশোধন ব্যয় ও সময়কালও বাড়ানো হয়েছে। দুই প্রান্তে র্যাম্প তৈরি করা হয়েছে ৩৩০ মিটার। এতে ওভারপাসে উঠতে সংযোগ পথ অনেকটা খাড়াখাড়ি হচ্ছিল। এজন্য র্যাম্পের দৈর্ঘ্য আরো ১১২ মিটার বাড়ানো হয়েছে। এতে নতুন করে ব্যয় বেড়েছে ১০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, শহরের যানজট কমানো ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। রেলবাজার এলাকায় ওভারপাস নির্মাণ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট। এর আগে ২০২২ সালের ২৮ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। পরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ দরপত্র আহ্বান করে। ঢাকা বনানীর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এনডিই) নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ৭৪৮ দশমিক ৬৯৬ মিটার আয়তনের এ অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৫ কোটি ১১ লাখ ৭ হাজার টাকা। প্রথম কার্যাদেশে সময় ছিল চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে এর মধ্যেই আবার সংশোধন ব্যয় ও সময়কাল বাড়ানো হয়েছে। ওভারপাসে ১৩টি স্প্যান থাকবে। প্রস্থ হবে সোয়া ১০ মিটার।
সওজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণকাজ চলাকালে সমস্যা দেখা দেয় ওভারপাসের র্যাম্পের দৈর্ঘ্য নিয়ে। দুই প্রান্তের র্যাম্পের নকশায় প্রথমে দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছিল ৩৩০ মিটার। এতে ওভারপাসে উঠতে সংযোগ পথ অনেকটা খাড়া হচ্ছিল। এজন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) পাঠানো হয়। সংশোধিত ওভারপাসে উঠতে সংযোগ র্যাম্পের দৈর্ঘ্য আরো ১১২ মিটার বাড়ানো হয়েছে। এতে নতুন করে ব্যয় বেড়েছে ১০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। এ অবকাঠামো নির্মাণে এখন মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭৪ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে নির্মাণকাজে সময় বেড়েছে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত।
এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালক খন্দকার গোলাম মোস্তফা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রেলওয়ে ওভারপাসের নির্মাণকাজ ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ আগামী বছর জুনের মধ্যে শেষ হবে। তবে ওই সময়ের আগে অর্থাৎ আগামী ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়।’
এদিকে নির্মাণকাজ ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজে অধিক জনবল নিয়োগ না করায় ধীরগতিতে কাজ চলছে।
শহরের বাসিন্দারা জানান, প্রথম দিকে ওভারপাসের কাজ দ্রুত গতিতেই চলছিল। কিন্তু মাঝপথে এসে কাজের গতি কমে গেছে। রাস্তা খুঁড়ে রাখায় মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটছে। রাস্তা দিয়ে সহজে চলাচল করা যাচ্ছে না। আবার যদি কাজ শেষ হতে এক বছর লেগে যায়, তাহলে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে।
ঢাকা থেকে পণ্য বহনকারী ট্রাকচালক আব্দুল খালেক বলেন, ‘ট্রান্সপোর্টের পণ্য নিয়ে প্রায়ই আমাকে ট্রাক নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় আসা লাগে। ঝিনাইদহ থেকে চুয়াডাঙ্গায় আসতে এ রাস্তায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ট্রাক চালানোর সময় মনে হয় উল্টে যাবে। তবুও এ রাস্তায় আসতে হয়।’
একই কথা বলেন, নেহালপুর গ্রামের ইজিবাইকচালক ইদ্রিস। তিনি বলেন, ‘পেটের তাগিদে ইজিবাইক চালিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরে আসতে হয়। কিন্তু যাত্রী নিয়ে এটুকু রাস্তা পেরোনো আমার জন্য খুবই সমস্যা মনে হয়।’