উপকূলের ৪ নৌরুট চাহিদা থাকলেও বন্ধ সি-ট্রাক চলাচল

নিরাপদ ও আরামদায়ক হওয়ায় চার উপকূলীয় নৌরুট দিয়ে যাতায়াতে সি-ট্রাককে অগ্রাধিকার দেন যাত্রীরা। তার পরও যাত্রী সংকটের কথা বলে এসব রুটে গত অক্টোবর থেকে নৌযানটির চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এর বদলে চালানো হচ্ছে লঞ্চ। অভিযোগ আছে, খরচ কমিয়ে বেশি লাভের আশায় ইজারাদাররা সি-ট্রাকের বদলে লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করছেন। আর এ কাজে তাদের সহায়তা করছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মীরা।

নিরাপদ ও আরামদায়ক হওয়ায় চার উপকূলীয় নৌরুট দিয়ে যাতায়াতে সি-ট্রাককে অগ্রাধিকার দেন যাত্রীরা। তার পরও যাত্রী সংকটের কথা বলে এসব রুটে গত অক্টোবর থেকে নৌযানটির চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এর বদলে চালানো হচ্ছে লঞ্চ। অভিযোগ আছে, খরচ কমিয়ে বেশি লাভের আশায় ইজারাদাররা সি-ট্রাকের বদলে লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করছেন। আর এ কাজে তাদের সহায়তা করছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল, ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় এলাকার মানুষ প্রতিদিনই নৌপথে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। ২০০৩ সাল থেকে এসব জেলার চারটি নৌরুটে চালু করা হয় সমুদ্রে চলাচল উপযোগী অত্যাধুনিক সি-ট্রাক সার্ভিস। এর মধ্যে বরিশাল-লক্ষ্মীপুর-মজুচৌধুরীরহাট রুটে খিজির-৮, ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর-মজুচৌধুরীরহাট রুটে খিজির-৭, মনপুরা-শশীগঞ্জ রুটে শহীদ শেখ কামাল এবং চর আলেকজান্ডার-মির্জাকালু রুটে শেখ ফজলুল হক মনি সি-ট্রাক দিয়ে যাত্রী পরিবহন করা হয়। লঞ্চের তুলনায় এ নৌযান বেশ আরামদায়ক ও নিরাপদ। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ মৌসুমে অন্যান্য নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও সি-ট্রাক দিয়ে যাত্রী পরিবহন করা হয়। তাছাড়া ভাড়া একই হওয়ায় যাত্রীরা এ নৌযান যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

তবে কয়েক বছর ধরেই অক্টোবর থেকে প্রায় পাঁচ মাস সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখা হচ্ছে। এর বদলে লঞ্চ দিয়েই যাত্রী পরিবহন করা হয়। চলতি মৌসুমেও গত অক্টোবরের মধ্যভাগে চারটি রুটে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে কোনো সরকারি নির্দেশনা নেই।

সূত্র জানায়, সি-ট্রাক চলাচল করলে লঞ্চে কেউ যেতে চায় না। কারণ ভাড়াও প্রায় এক। অন্যদিকে লঞ্চে যাত্রী পরিবহন করলে ইজারাদারের খরচ কম পড়ে বলে লাভ বেশি হয়। এ কারণে যাত্রীদের লঞ্চমুখী করতে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখা হয়। অন্য কোনো উপায় না থাকায় মার্চের মধ্যভাগ থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত সি-ট্রাক চলাচল করে। কারণ এ সময়কে উপকূলের নৌযান চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ মৌসুম ধরা হয়।

মনপুরার এক নৌযাত্রী বলেন, সি-ট্রাকে চলাচল নিরাপদ। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম থাকে। বড় নদীতে চলাচল উপযোগী করেই এসব নৌযান তৈরি করা বলে শুনেছি। কিন্তু অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা জানতে চাইলে লঞ্চের কথা জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে মনপুরা-শশীগঞ্জ রুটের সি-ট্রাক শহীদ শেখ কামালের ইজারাদার নুর উদ্দিন মিয়া বলেন, ১৬ অক্টোবর থেকে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। যদিও বিআইডব্লিটিসির সঙ্গে আমাদের চুক্তি বলবৎ আছে।

এ রুটে অন্য একটি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে লঞ্চ চালানোর কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, শুধু ঝুঁকিপূর্ণ মৌসুমে সি-ট্রাক চলাচল করে। বাকি সময়ে লঞ্চ থাকলে সি-ট্রাকে যাত্রী হয় না। এখন এ রুটে লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। 

সি-ট্রাক খিজির-৮-এর একজন কর্মী জানান, যাত্রীরা চায় সি-ট্রাক সারা বছরই চলাচল করুক। বিআইডব্লিউটিসির প্রধান কার্যালয়েরও এমন সিদ্ধান্ত আছে। বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা না থাকলেও শীত মৌসুম এলে সি-ট্রাক ডকে তোলা হয়।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি বরিশালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মধ্য অক্টোবর থেকে সব রুটে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, এ সময় সি-ট্রাকে যাত্রী হয় না। কারণ এসব রুটে লঞ্চ চলাচল করে। সি-ট্রাক চলাচল করলে যাত্রীশূন্য আসতে হবে। বর্ষার সময়ও সি-ট্রাকে যাত্রী পাওয়া যায় না বলে দাবি করেন তিনি। সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো নির্দেশনা নেই।

আরও