উন্নত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেশের প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পায় না

ড. শ্যামল চৌধুরী। ক্রাউফোর্ড স্কুল অব পাবলিক পলিসির অধ্যাপক। সাউথ এশিয়ান ইকোনমিকসের রাজীব গান্ধী চেয়ার এবং অস্ট্রেলিয়া সাউথ এশিয়া রিসার্চ সেন্টারের ডিরেক্টর হিসেবেও নিয়োজিত। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। শিক্ষা খাতের নানা সংকট ও করণীয় নিয়ে বণিক বার্তার নিয়মিত আয়োজন ‘শিক্ষালয়’-এ কথা বলেন তিনি

উন্নত দেশ শিক্ষার গুণগত মান রক্ষায় বরাবরই সতর্ক থাকে। সে তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। স্বাধীনতার পর শিক্ষা অবকাঠামোর অনেক উন্নতি হলেও মান বাড়েনি। আপনি নিজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা কাঠামো নিয়ে কাজ করেছেন। এ অভিজ্ঞতার নিরিখে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট কী কী বলে মনে করেন?

উন্নত দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা যেসব গুণ ও দক্ষতা অর্জন করে বা করার সুযোগ পায় আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা তা পাচ্ছে না। বিষয়টিকে দুইভাবে দেখা যেতে পারে। প্রথমত, প্রাথমিক শিক্ষা খাতে আমরা কীভাবে শিক্ষার্থীদের গড়তে চাই এবং এটিই হওয়া উচিত চূড়ান্ত উদ্দেশ্য। দ্বিতীয়ত, আপেক্ষিকভাবে অন্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় আমাদের মান কেমন? দেখা যাবে এ দুটো বিষয়েই আমরা পিছিয়ে আছি। পঞ্চম শ্রেণীর ধাপ পেরোনোর পর শিক্ষার্থীদের গণিত, ইংরেজি ও বাংলা শেখায় যে পারদর্শিতা অর্জন করার কথা, সেটি করছে না; যা করছে তা তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীর পর্যায়ের। একই সঙ্গে আবার অন্য দেশের সঙ্গে তুলনায় তারা পিছিয়ে আছে।

গণিত ও ইংরেজিতে আমাদের পিছিয়ে থাকার কারণ কী? এটা কি আমাদের শিক্ষকদের অদক্ষতা নাকি কারিকুলামগত সংকট?

দুটো বিষয়ই এখানে কাজ করছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুত কিনা আমরা যাচাই করি না অথবা সেটা আমাদের জানা নেই। তারা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছে কিনা সেটাও নিশ্চিত করা হয় না। আবার অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের পাঠাভ্যাসে যুক্ত হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে পারছেন কিনা সেটাও একটি বিষয়। এ সবকিছুর সমন্বয়েই শিক্ষার্থীর মানসিকতা গড়ে ওঠে। আমাদের এসব বিষয়েই সংকট আছে।

সংবিধানে সবার জন্য শিক্ষার কথা বলা আছে। দেশে পাঁচ ধরনের কারিকুলাম ও ১১ ধরনের শিক্ষা কাঠামো রয়েছে। এ বিষয়গুলো প্রাথমিক শিক্ষা সংকটে প্রভাব রাখছে কিনা?

দেশের শিক্ষা কাঠামো এত অগোছালো কেন তা নীতিনির্ধারকরাই ভালো বলতে পারবেন। আমি অস্ট্রেলিয়ায় থাকি। আমার সন্তান এখানেই পড়ালেখা করছে। তাই এখানকার শিক্ষা কাঠামো নিয়ে অনেক কিছু বলতে পারি। অস্ট্রেলিয়ায় তিন ধরনের প্রাথমিক শিক্ষা কাঠামো রয়েছে। একটা সরকারি। শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পড়তে পারে। দ্বিতীয়টা চার্চ নিয়ন্ত্রিত আর তৃতীয়টা বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো। কাঠামো আলাদা হলেও কারিকুলাম সরকারই নিয়ন্ত্রণ করে। চার্চ নিয়ন্ত্রিত ক্যাথলিক প্রতিষ্ঠানে সরকারি কারিকুলামের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয়, যেটা মূল শিক্ষার ৫ শতাংশ বা তার কম হবে। প্রটেস্টেন্টরাই বেশির ভাগ বেসরকারি স্কুলগুলো প্রতিষ্ঠা করেছে। অবশ্য এসব প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রভাব নেই বললেই চলে। তবে প্রথাগত জায়গা থেকে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে একদিন চার্চে যায়। সেটাও ৩০ মিনিটের একটা ক্লাস আর সেখানে ধর্মশিক্ষা দেয়া হয় না। নৈতিকতা শেখানো হয়। বাদবাকি সময় তারা সরকারি কারিকুলাম অনুযায়ী পড়ে। কিন্তু আমাদের দেশে কেন এত বৈচিত্র্যময় কারিকুলাম পড়ানো হয় সেটা গবেষণার দাবি রাখে। আমরা এক কারিকুলামে আসতে পারছি না। এটাই আমাদের শিশুদের এবং সমাজের জন্য দুর্ভাগ্য।

আপনি দেশে এলে বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেন। এবারের অভিজ্ঞতা কেমন?

এবার আমার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। পাশাপাশি কেরানীগঞ্জের দুটো স্কুলে গিয়েছি। ওখানে যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করেছি। প্রশিক্ষণ কেমন তা জানতে চেয়েছি। এটা আমাদের গবেষণারও বিষয়। আমি পাঁচজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের মধ্যে দুজন প্রধান শিক্ষক আর বাকি তিনজন বাংলা ও গণিত পড়ান। তাদের অনেক ভালো প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তারাই স্বীকার করছেন তাদের যে বেতন দেয়া হয় তার চেয়ে অল্প পারিশ্রমিকে কেজি স্কুলে ভালো শিক্ষা দেয়া হয়। বহু সচেতন বাবা-মা তাদের সন্তানকে তাই কেজি স্কুলে পাঠান। তাদের মূল সংকট ভালো শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করতে পারছে না। আবার সরকারি প্রাইমারি স্কুলে নিম্নবর্গের পরিবার থেকে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। তারা আবার প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় প্রস্তুত নয়। এজন্য ভালো ফল আসছে না। সব মিলিয়ে একটা দুষ্টচক্রের মধ্যে আছে আমাদের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কাঠামো।

বৈশ্বিক মানদণ্ডে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কী কী দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করতে হয়? আমাদের বিদ্যালয়গুলো সেই তুলনায় কী কী সংকটে আছে?

বিশ্বজুড়ে প্রতি দুই বা এক বছর পরপর জরিপ হয়। পরিসংখ্যান হয় প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমাদের শিক্ষা কাঠামোর অবস্থান সহজেই বোঝা সম্ভব। এমনকি বিদ্যালয়েরও নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে। কী কী শেখানো উচিত তার স্পষ্ট ধারণাও সেখানে থাকে। গণিতের ক্ষেত্রে কী কী কারিগরি দিক জানতে হবে তার নির্দেশনা আছে। আবার ভাষা দক্ষতার জন্য চর্চা ও অনুশীলনের আলাদা পদ্ধতি আছে। এ সবকিছুর নীতিমালা আছে। এও সত্য এ নীতিমালা অনুযায়ী আমরা শিক্ষার গুণগত সুফলটি যে আদায় করতে পারছি না এটি সবাই জানে।

এছাড়া বিশ্বব্যাপী একটা পরীক্ষা হয়। অর্গানাইজশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওসিইডি) ‘প্রোগ্রাম ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট’ (পিআইএসএ) নামে একটি ত্রিবার্ষিক বিশ্বব্যাপী সমীক্ষা পরিচালনা করে, যা ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পঠন, গণিত ও বিজ্ঞানের জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার মূল্যায়ন করে। আমার জানামতে বাংলাদেশ এখনো এ পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এজন্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আপেক্ষিকভাবে কোন অবস্থানে আছে তা আমাদের জানা নেই। এ পরীক্ষায় যে দেশগুলো তুলনামূলক ভালো ফল দেখাচ্ছে তাদের ধনী বলা যাবে না। ফিনল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর খুবই ভালো করে। এগুলো আমাদের থেকে খুব দূরের দেশ নয়। যেহেতু আমরা এ পরীক্ষায় অংশ নিই না তাই জানিও না আমাদের বৈশ্বিক মান কেমন।

মোটাদাগে একটা পরামর্শ অনেকেই দেন যে শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বাড়ানো গেলে সংকট দূর হবে। আপনারও কি একই অভিমত?

শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো উচিত। কিন্তু এটাই একমাত্র সমাধান নয়। কেজিতে অল্প বেতনেই ভালো শিক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে। মূল সংকট পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায়। কেজি স্তরে প্রতিষ্ঠানের একজন মালিক বা পরিচালক থাকেন। তিনি সবকিছু পরিচালনা করেন। অভিভাবকদের কাছে স্পষ্ট তথ্য থাকে এবং এজন্য তারা বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রয়োজনে সমালোচনাও করেন। এ ধরনের চর্চা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই বললেই চলে।

আপনি সম্প্রতি প্যারেন্টিং নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। গুড প্যারেন্টিং ধারণাটিকে ব্যবহার করে আমাদের এ সংকট মোকাবেলা করা যাবে?

শিশুর বিকাশে প্যারেন্টিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টাকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—এ দুই ভাগেই ভাগ করা সম্ভব। যেমন কোনো শিশু ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট চালাচ্ছে। এমন সময় তার অভিভাবক এসে বললেন, সে যেন একটা নির্দিষ্ট সময় পর আর ডিভাইসটিতে আকৃষ্ট না থাকে। তাকে বোঝাতে হবে, ডিজিটাল ডিভাইস একটানা বেশিক্ষণ চালানো ঠিক নয়। উপযুক্ত সময়ে এটির ব্যবহার করার শিক্ষা দিতে হবে। এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক প্যারেন্টিং ইতিবাচক।

এবার নেতিবাচক দিক। শিশুকে ডিভাইস ব্যবহার করতে দেখে বাবা-মার রাগ হতেই পারে। তখন ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে কিংবা ডিভাইস কেড়ে নিয়ে শিশুকে বকাবকি করেন অনেকে। আমরা সাড়ে পাঁচ হাজার বাচ্চাকে নিয়ে গবেষণা করে দেখেছি তাদের আইকিউ কেমন, বাংলা গণিতের ওপর দখল কেমন, ব্যক্তিত্ব কেমন। মজার বিষয় হলো ইতিবাচক প্যারেন্টিং পাওয়া সন্তানরা সবদিক বিবেচনায় নেতিবাচক প্যারেন্টিংয়ের সন্তানদের থেকে এগিয়ে। এখন কেউ বলতে পারে নেতিবাচক প্যারেন্টিং যারা করে তারা নিম্নবিত্ত পরিবারের, ইতিবাচক প্যারেন্টিং যারা করে তারা উচ্চবিত্ত। এজন্য অবস্থা এমন। আবার যেসব বাবা-মার আইকিউ বেশি তাদের সন্তানেরও বেশি হয়। এসব ধারণা পুরোপুরি সত্য নয়। এসবের ভূমিকার পরও প্যারেন্টিং একটি বড় ভূমিকা রাখে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেকেই ইন্টারনেট, ভিডিও প্লাটফর্ম এবং নানা ধরনের অনলাইন গেমসে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এটা তাদের পড়াশোনায় কেমন প্রভাব ফেলছে? এ ধরনের ব্রেন রট প্রতিরোধে নীতিনির্ধারকদের কেমন পদক্ষেপ নেয়া উচিত?

অস্ট্রেলিয়ায় অভিভাবকরা এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছেন। অবশেষে নীতিনির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ১৬ বছরের আগে কেউই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট বা প্রোফাইল খুলতে পারবে না। এমনকি এ ধরনের মাধ্যমে অ্যাকসেসও নিতে পারবে না। এ নিয়ম প্রয়োগ করার কাজটা সহজ ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এ নিয়ম চালু করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কারণ মোবাইল কোম্পানির সঙ্গে আমেরিকার ভালো সম্পর্ক। অস্ট্রেলিয়ার অনুকরণে বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ এ নীতিমালা চালু করেছে।

আধুনিক সময়ে গণিত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ এশিয়ার অনেক দেশ গণিতে ভালো করছে। কিন্তু আমাদের দেশের ছাত্ররা গণিতে দুর্বল। এ বিষয়ে অনেকের ভীতি আছে এবং প্রতিনিয়ত পরীক্ষায় পাস মার্ক অর্জন করতে পারে না। সমস্যাটি আসলে কোথায়?

গণিতের ভিত্তি তৈরি করতে গেলে শেখনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। কী পড়ানো হচ্ছে, কীভাবে পড়ানো হচ্ছে—সবই পরিবর্তন করতে হবে। যেসব দেশ গণিক শিক্ষায় ভালো ফল দেখাতে পেরেছে তাদের শিক্ষা ও অনুশীলন পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনে অনুসরণ করা যেতে পারে। গণিতের সঙ্গে আইকিউ জড়িত। এটা প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। আর আমাদের কোথায় সমস্যা সেটাকে ফোকাস করে এগোতে হবে। অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

দেশের মাদরাসার ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীই আরবি পড়তে পারে না। ইংরেজিতেও ভয়াবহ দুর্বলতা আছে। সব খাতের শিক্ষাতেই একই অবস্থা। ভাষা দক্ষতা অর্জনে আমাদের দুর্বলতা এত বেশি কেন? এদিকে সরকার একাধিক ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছে।

আমরা ভাষাটা কীভাবে পড়ছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রাথমিক পর্যায় থেকেই ইংরেজি পড়ি। কিন্তু ভাষাটা উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়েও আর শেখা হয় না। এটাই মূল দুর্বলতা।

সিলেবাসের বাইরে প্রাথমিক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থীর সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশের জন্য কেমন দক্ষতা অর্জন করা দরকার?

সামাজিক ও আবেগিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে সংহত ও উন্নত করা দরকার। শিক্ষার্থীদের নৈতিকভাবে শক্তিশালী করার প্রশিক্ষণ হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা যেতে পারে। কীভাবে অন্যজনকে সহযোগিতা করা যায়, সমাজ গঠনে শিক্ষাকে কীভাবে ব্যবহার করা যায় এ ধরনের চিন্তায় নিমজ্জিত থাকা। কারণ কর্মজীবনে অপরিচিতদের সঙ্গেই কাজ শুরু করতে হয়। এজন্য শৈশব থেকেই অপরিচিত কাউকে কতটুকু বিশ্বাস করা দরকার এবং কারো ওপর কতটা আস্থা রাখা যায় সেটা বোঝার মানসিক সক্ষমতা জরুরি। আবার নিজেকেও আস্থাবান করে তোলার মতো মানসিকতা রাখতে হয়। মানুষের সঙ্গে মেশা ও সংঘবদ্ধ হওয়ার ধারণাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়গুলো প্রাথমিক স্তরে শেখানো যায়। এজন্য বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না।

আরও