নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়নের সময় শেষ হচ্ছে আজ

আবেদনের বাইরে ৫ হাজার বেসরকারি হাসপাতাল

কভিড-১৯ পরীক্ষা নিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের নানা অনিয়মের খবর উঠে আসার পরই লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে দেখা যায়, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বড় অংশেরই নেই নিবন্ধন। আবার কিছু আছে লাইসেন্স নিলেও তা নবায়ন করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের লাগাম টানতে লাইসেন্স নবায়ন ও নিবন্ধনে এক মাস সময়সীমা বেঁধে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই সময় শেষ হচ্ছে আজ (২৩ আগস্ট)। তবে এখনো লাইসেন্স নবায়ন বা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেনি পাঁচ হাজারের অধিক চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।

কভিড-১৯ পরীক্ষা নিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের নানা অনিয়মের খবর উঠে আসার পরই লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে দেখা যায়, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বড় অংশেরই নেই নিবন্ধন। আবার কিছু আছে লাইসেন্স নিলেও তা নবায়ন করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের লাগাম টানতে লাইসেন্স নবায়ন ও নিবন্ধনে এক মাস সময়সীমা বেঁধে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই সময় শেষ হচ্ছে আজ (২৩ আগস্ট)। তবে এখনো লাইসেন্স নবায়ন বা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেনি পাঁচ হাজারের অধিক চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।

বেঁধে নেয়া সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন বা নিবন্ধন নিতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে—মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনার পর অনলাইনে আবেদন বাড়লেও বর্তমানে চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এখনো লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কতদিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন প্রশ্নে সঠিক তথ্য দিতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, আবেদনের সময় শেষ হলে এ বিষয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৭ হাজার ২৪৪টি। তবে লাইসেন্স নবায়ন ও নিবন্ধনের জন্য গতকাল পর্যন্ত ১২ হাজার ১০৩টি আবেদন অনলাইনে জমা পড়েছে। এগুলোর মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনের অভাবে দেড় হাজারের অধিক হাসপাতালের নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া যথাযথ কাগজপত্র জমা ও বিভিন্ন শর্তপূরণ না করতে পারায় সাড়ে চার হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান ঝুলে আছে।

প্রতিষ্ঠান মালিকদের ভোগান্তি কমাতে দুই বছর আগে অনলাইনের মাধ্যমে লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে এ পদ্ধতির নানা জটিলতার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিযোগ, দুই বছর আগে অনলাইনে আবেদন করা অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেননি। একই সঙ্গে লাইসেন্স পেতে পরিবেশ ছাড়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স পেতে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

এমন জটিলতার কথা জানান রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মোর্শেদ। তিনি বলেন, অনেক ঘোরাঘুরি করেও পরিবেশ ছাড়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স নিতে পারিনি। তাই ছাড়পত্র ছাড়াই অনলাইনে লাইসেন্স পেতে আবেদন করেছি প্রায় ছয় মাস হলো। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এসব অভিযোগ আংশিক সত্য বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, লাইসেন্স নবায়ন না করার বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে। হাসপাতাল লাইসেন্সের সময় কাগজপত্রে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী ঠিকই দেখায়। কিন্তু পরের বছর নবায়নের সময় এ-সংখ্যক জনবল দেখাতে পারে না। নবায়নের আবেদন করার পর পরিদর্শনে গেলে আবেদনে দেয়া তথ্যের সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায় না। এসব সংশোধন করে ফের আবেদন করতে বলার পর থেকেই তাদের আর কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে অধিদপ্তরের জনবল সংকটের কারণেও সব হাসপাতালে নিয়মিত সরেজমিন পরিদর্শন সম্ভব হয় না। যে কারণে লাইসেন্স নিবন্ধন ও নবায়নে জট তৈরি হয়েছে।

এদিকে সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সব বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির

সভাপতি মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল চিত্র মানুষের সামনে প্রকাশ পেতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তড়িঘড়ি করে এক মাস সময় দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ২৩ আগস্টের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করতে বলেছে। তবে এ সময়ের মধ্যে আবেদন শেষ করা সম্ভব নয়। আমরা অসংখ্যবার বলেছি, অধিদপ্তরের দেয়া শর্তগুলো সবার পক্ষে পূরণ করা সম্ভব না। যার কারণে সবাই লাইসেন্স নবায়ন করতে পারবেও না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা আবেদন করতে পারেনি, তাদের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে আমরা কথা বলব। আবেদনের সময় বাড়ানো যায় কিনা এ বিষয়েও আলোচনা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল বিভাগের পরিচালক ফরিদ হোসেন মিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ২৩ আগস্টের মধ্যে যেসব বেসরকারি হাসপাতাল লাইসেন্স নবায়ন বা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লাইসেন্সহীন প্রতিষ্ঠান কতদিনের মধ্যে বন্ধ হবে বা পরবর্তী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ২৩ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। আগে কতটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে সেটা দেখা যাক। এ বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আলোচনা হবে। সেখানে যদি নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাহলে আবেদনের সময় বাড়ানো হবে। আর যদি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে যেসব প্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও