চীন, ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এসব অংশীদারের পৃথক সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে এসব দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও স্পষ্টতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার মিরপুরের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) কলেজটির কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিবেশে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে নীতিনিষ্ঠ, বাস্তববাদী ও জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক ঝুঁকি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তঃদেশীয় হুমকির কারণে বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎমুখী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির অর্থ বিচ্ছিন্নতা নয়। বরং কূটনীতির কেন্দ্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে রাখা, সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে অংশীদারত্ব সম্প্রসারণই এ নীতির লক্ষ্য।
আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, বৃহত্তর অর্থনৈতিক একীভূতকরণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন হুমায়ুন কবির।
বিদেশে থাকা বাংলাদেশী নাগরিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে আত্মবিশ্বাসী, তবে সংঘাতমুখী নয়; উন্মুক্ত, তবে নির্ভরশীল নয়; এবং বাস্তববাদী, তবে আমাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস না করে।