তদন্ত প্রতিবেদন

কালুরঘাটে ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষে দায়ী দুই চালক

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চালক ও সহকারী চালক সেতুতে ওঠার আগে ট্রেন থামানোর বাধ্যতামূলক ‘ডেড স্টপ’ নিয়ম উপেক্ষা করেন। ওই অংশে সর্বোচ্চ গতিবেগ ১০ কিলোমিটার হলেও তারা কয়েকগুণ বেশি গতিতে ট্রেন চালিয়েছেন। গেটম্যানের সংকেতও তারা মানেননি।

চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুতে ট্রেন ও সড়কযান সংঘর্ষে দুজনের প্রাণহানির ঘটনায় পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক ও সহকারী চালককে দায়ী করা হয়েছে। রেলওয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে লোকোমাস্টার গোলাম রসুল ও সহকারী লোকোমাস্টার মো. আমিন উল্লাহর অবহেলা ও একাধিক নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটি তাদের শাস্তির সুপারিশ করেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চালক ও সহকারী চালক সেতুতে ওঠার আগে ট্রেন থামানোর বাধ্যতামূলক ‘ডেড স্টপ’ নিয়ম উপেক্ষা করেন। ওই অংশে সর্বোচ্চ গতিবেগ ১০ কিলোমিটার হলেও তারা কয়েকগুণ বেশি গতিতে ট্রেন চালিয়েছেন। গেটম্যানের সংকেতও তারা মানেননি। বইয়ে স্বাক্ষর না করেই সেতু পার হতে গিয়ে ট্রেনটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে সেতুর ওপর থাকা অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও কাভার্ডভ্যানসহ কয়েকটি যানবাহন ট্রেনের নিচে চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম (২৯) ও চার বছরের শিশু মেহেরিমা নূর। আহত হন অন্তত ১৬ জন।

রেলওয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহার দুদিন আগে ৫ জুন রাতে সেতুর পূর্বপ্রান্তে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তদন্ত কমিটি ট্রেনের গার্ড সোহেল রানা ও গেটম্যান মো. মাহবুবকে দায়মুক্ত ঘোষণা করেছে।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এ বি এম কামরুজ্জামান জানান, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলএম ও এএলএম রেলের নিয়ম, জিআর বিধি ৬, ৮৯ এবং আ:নি: ২১২(২) লঙ্ঘন করেছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেন চালককে সেতুর কেবিনে ট্রেন থামিয়ে গেটম্যানের স্বাক্ষরিত বইয়ে স্বাক্ষর করতে হয়। তারপর গেটম্যানের সবুজ সংকেত পেয়ে ট্রেন ১০ কিলোমিটার গতিতে সেতু পার হয়।

তিনি আরো জানান, প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে।

কমিটির প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য চালকদের দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে। সেতুতে সড়ক যান আটকে থাকলেও সিগন্যাল দেয়া হয়েছিল। কিন্তু চালকরা ‘ডেড স্টপ’ না মেনেই ট্রেন চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়াতে ১০টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— সেতুতে প্রবেশের আগে সর্বশেষ সড়কযানের নম্বর রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা, গেটম্যানদের ওয়াকিটকি সরবরাহ, অতিরিক্ত গেট ব্যারিয়ার স্থাপন, ট্রেনচালকদের সচেতন করতে বড় সাইনবোর্ড বসানো, গার্ড-চালকদের উন্নত ওয়াকিটকি দেয়া, স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় যান চলাচলের নিয়ম মানা নিশ্চিত করা এবং ট্রেন চালককে আগামভাবে নিয়ম মনে করিয়ে দেয়া।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত কালুরঘাট সেতু মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও বিকল্প সেতু না থাকায় এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে। দেড় বছর আগে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি সংস্কার করা হয়। বর্তমানে এই সেতু দিয়ে চার জোড়া যাত্রীবাহী ও সপ্তাহে চার-পাঁচ দিন তেলবাহী ওয়াগন ট্রেন চলাচল করে। তাই ঝুঁকি বিবেচনায় বুয়েটের পরামর্শে এখানে ‘ডেড স্টপ’ নিয়ম চালু রয়েছে।

আরও