এরই মধ্যে সাদাপাথর, জাফলংসহ কয়েকটি পর্যটন এলাকা তলিয়ে গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাদাপাথর ও বিছনাকান্দি এলাকায় আপাতত পর্যটক সমাগম বন্ধ করা হয়েছে।
গতকাল সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিন মিয়া বলেন, ‘শনিবার রাত থেকে পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাদাপাথর ও বিছনাকান্দি পর্যটন এলাকায় আপাতত পর্যটক সমাগম বন্ধ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় পর্যটন কেন্দ্রটি খুলে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
স্থানীয়রা জানান, উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাদাপাথর এলাকায় অস্থায়ী অন্তত ৫০টি দোকান ঢলের পানিতে ভেসে গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের মেঘালয় রাজ্যে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর জেরে গভীর রাতে জাফলং জিরো পয়েন্টসংলগ্ন পিয়াইন নদীতে আকস্মিকভাবে পানির স্তর হু হু করে বাড়তে থাকে। ঢলের তীব্র গতি এতই বেশি ছিল যে ব্যবসায়ীরা মালামাল সরানোর তেমন সুযোগই পাননি। অনেকেই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ দোকানেই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে স্রোতের তোড়ে দোকানপাট ভেঙে মালামাল ভেসে যায়। গুটিকয়েক ব্যবসায়ী সামান্য কিছু জিনিসপত্র রক্ষা করতে পারলেও অনেকেরই সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের পাশাপাশি বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় সুরমা, কুশিয়ারা, পিয়াইন, ধলাই, সারিসহ কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ কারণে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং স্থানীয় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে পানির সমতল আরও বাড়তে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সিলেট অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে।’