সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে চারটি মাজারে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি মাজারের আঙিনায় থাকা তিনটি বসতঘর ভাংচুর শেষে অগ্নিসংযোগ করা হয়। গতকাল সকাল ১০টার দিকে হোমনা উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের আসাদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভাংচুর করা মাজারগুলো হচ্ছে আসাদপুর গ্রামের আলেক শাহর বাড়িতে অবস্থিত তার বাবা কফিল উদ্দিন শাহর মাজার, একই গ্রামের আবদু শাহর মাজার, কালাই (কানু) শাহর মাজার ও হাওয়ালি শাহর মাজার। হাওয়া বেগম নামে এক নারী হাওয়ালি শাহ মাজার পরিচালনা করেন। তবে সেখানে কোনো ব্যক্তি সমাহিত নেই। ওই বাড়িতে মাজারসদৃশ স্থাপনায় আগুন দেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলেক শাহর ছেলে মহসিন তার ফেসবুক আইডি থেকে বুধবার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ধর্মীয় উসকানিমূলক একটি পোস্ট করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় স্থানীয় একদল মানুষ হোমনা থানার সামনে জড়ো হয়ে মহসিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে ওইদিন দুপুরেই পুলিশ মহসিনকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা হোমনা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল সকালে মহসিনকে কুমিল্লার আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। এর আগে গত ২৯ আগস্টও মহসিন ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননামূলক পোস্ট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সেক্রেটারি সফিক রানা ও ইসলামী যুবসেনার নেতা শরিফুল জানান, মহসিন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে আসছিলেন।
এদিকে আপত্তিকর ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে গতকাল সকালে মাইকে ঘোষণা দিয়ে কয়েকশ মানুষ একত্র হয়ে প্রথমে মহসিনদের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে তারা কফিল উদ্দিন শাহর মাজার ভাংচুর করে। একপর্যায়ে মহসিনদের তিনটি বসতঘরে ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ লোকজন। এরপর একই গ্রামে পৃথক তিনটি স্থানে মাজারে হামলা ও ভাংচুর চালায় বিক্ষুব্ধরা। এর মধ্যে হাওয়ালি শাহ নামে পরিচিত মাজারটিতে আগুন দেয়া হয়। বাকিগুলোয় ভাংচুর করা হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খান ও হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষেমালিকা চাকমা সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ক্ষেমালিকা চাকমা বলেন, ‘গত বুধবার ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট নিয়ে জনতার মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষুব্ধ জনতা মাজারে হামলা, ভাংচুর ও আগুন দিয়েছে।’
হোমনা থানার ওসি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মহসিনকে গ্রেফতার করে গতকাল আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবু সকালে বিক্ষুব্ধ লোকজন মাজারে ভাংচুর ও আগুন দিয়েছে।’
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খান বলেন, ‘আপত্তিকর পোস্ট দেয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ জড়িত ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু আইন হাতে তুলে নিয়ে যারা উসকানি দিয়ে মাজারে হামলা, ভাংচুর ও আগুন দিয়েছে, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’