ছাত্রকে যৌন হয়রানির অভিযোগে কারাগারে ঢাবি শিক্ষক

ভুক্তভোগী ঢাবির রসায়ন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিভাগের একটি ল্যাব পরীক্ষায় সমস্যার প্রেক্ষিতে তিনি অধ্যাপক এরশাদ হালিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সমস্যার সমাধানের কথা বলে ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসায় ডেকে নিয়ে তাকে যৌন নির্যাতন করেন ওই অধ্যাপক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমকে যৌন হয়রানির মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নাকচ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান মিলন আদালতে এরশাদ হালিমকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপরদিকে তার আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় জামিন আবেদন করে বলেন, আসামি ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত নন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ঢাবির রসায়ন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিভাগের একটি ল্যাব পরীক্ষায় সমস্যার প্রেক্ষিতে তিনি অধ্যাপক এরশাদ হালিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সমস্যার সমাধানের কথা বলে ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসায় ডেকে নিয়ে তাকে যৌন নির্যাতন করেন ওই অধ্যাপক।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু না বলতে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরদিন পরীক্ষার শিফট পরিবর্তনের কথা বলে আবার বাসায় যেতে বলা হলেও ছাত্রটি যায়নি। পরে গ্রামে চলে গেলে তাকে ফোনে ভয়ভীতি ও অশ্লীল ভাষায় হুমকি দেয়া হয়। ১০ অক্টোবর ঢাকায় ফেরার পর চাপের মুখে ১৪ অক্টোবর রাতে তিনি ওই বাসায় যান। সেখানে তাকে মারধর ও বিকৃত যৌনাচারের শিকার হতে হয়। এতে জ্ঞান হারালে পরদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে তাকে হলে রেখে আসা হয়।

ঘটনার পর শুক্রবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ছাত্র। মামলা গ্রহণের পর আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও