করোনা শুরুর টানা ১৭ মাস পর অবশেষে ঘুম ভেঙেছে কেন্দ্রীয় বিএনপির।
করোনা মোকাবেলায় বিএনপির জেলা ও মহানগর করোনা হেল্প সেলে সম্পৃক্ত ও সহযোগিতা এবং নিজ নির্বাচনী এলাকায় করোনায় আক্রান্তদের পাশে থাকার জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের পত্র প্রেরণ করেছেন দলের মহাসচিব।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আবেদন করা প্রার্থীদের কাছে গত ১৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এ পত্র প্রেরণ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার বরিশালে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন একাধিক নেতা।
এরপরই বিএনপির কেন্দ্রীয় এ নির্দেশের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।
বিগত নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনে মনোনয়ন চাওয়া ৩৫ নেতাকে এ চিঠি দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আবেদন করা বরিশাল বিভাগের প্রার্থীদের কাছে মহাসচিবের প্রেরিত চিঠিতে করোনা মোকাবেলায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করা হয়।
তবে চিঠি পাওয়ার পরেও অধিকাংশ নির্বাচনী এলাকায় করোনা আক্রান্তদের জন্য বিএনপির তেমন কোনো কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি।
এমনকি একাদশ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া অধিকাংশ নেতাদের নির্বাচনী এলাকায় তেমন কোনো যোগাযোগও নেই।
সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের মহাসচিবের পত্র প্রেরণের আগেই করোনার শুরু থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে দিনরাত আক্রান্তদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনের বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, উত্তর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার খান।
তিনি নিজে অক্সিজেন সিলিন্ডার ক্রয় করে করোনা আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে সেবা দিয়েছেন।
এছাড়া তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে করোনা আক্রান্তদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ, করোনার সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ, করোনার টিকা রেজিস্ট্রেশন, করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং অসহায় কর্মহীনদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন।
এ ব্যাপারে আব্দুস সাত্তার খান বলেন, কে কি করেছে সেটা বড় কথা নয়, করোনাকালে দলের সিনিয়র নেতাদের পরামর্শে আমি আমার নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের মানুষের জন্য কিছু করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।