দেশের এভিয়েশন খাতে গত ৪২ বছরে যেসব নিয়ম ও বিধিবিধান অংশীজনদের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে, সেগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ১৯৮৪ সালের বেসামরিক বিমান চলাচল বিধি সংশোধন করে নতুন বিধি তৈরি করা হচ্ছে। নতুন বিধিতে যাত্রীসেবার মান উন্নত করাকে যেমন প্রাধান্য দেয়া হবে, তেমনি বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে। বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। গতকাল রাজধানীর কুর্মিটোলায় ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারের দ্য প্রেস্টিজে এ পলিসি কনক্লেভ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান মন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আজকের অনুষ্ঠান পলিসি নিয়ে তাই আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে প্রায় ৪২ বছর পরে আমরা সিভিল এভিয়েশন রুলস ১৯৮৪ সংশোধন করে নতুন রুলস ২০২৬ প্রণয়ন করছি। আমাদের নতুন বিধিমালা অবশ্যই ব্যবসা ও বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব করেই তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হবে।’
বণিক বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। কনক্লেভে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। দেশের এভিয়েশন খাত নিয়ে আরেকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এয়ারএশিয়া ও কুয়েত এয়ারলাইনসের জেনারেল সেলস এজেন্ট টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের (টিএএস) চেয়ারম্যান কেএম মুজিবুল হক। অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।
কনক্লেভে ঢাকায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করা বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কান্ট্রি ম্যানেজার ও প্রতিনিধি, জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যাংকার, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে দেশের এভিয়েশন খাতের বিদ্যমান সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগের সুযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নীতিগত সংস্কার, আগামীর করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমিতে রূপান্তর করা। এ অগ্রযাত্রায় এভিয়েশন খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিমানবন্দরগুলো দেশের প্রবেশদ্বার এবং রাষ্ট্রীয় আয়নার মতো। তাই এ আয়নাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নে আমরা এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছি।’
অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বিভিন্ন এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই আমাদের মূল অংশীজন। তাই বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে বিধিমালা তৈরিতে আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি এয়ারলাইনসের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধার বিধানে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাছাড়া বিমানের জটিল যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত-ওভারহলের ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’
মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত আরো বলেন, ‘দেশী-বিদেশী এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে আমরা একটি আন্তর্জাতিক মানের মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এভিয়েশন হাব তৈরির লক্ষ্য পূরণ হবে বলে আশা রাখি।’
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের একটি পূর্ণাঙ্গ বাজারের সম্ভাবনার নানা বিষয় তুলে ধরে পলিসি কনক্লেভের বিশেষ অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বর্তমানে এ বাজারের মূল্য সম্ভবত প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। আমাদের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি সমৃদ্ধ আঞ্চলিক রুট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। কম খরচের এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং নতুন গেটওয়ের সম্ভাবনা দেখতে হবে। পূর্ব এশিয়া, চীন, জাপান, কোরিয়া—এগুলো যাত্রী পরিবহন, পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য বড় সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। ওই দিকেও মানুষ ও পণ্যের গতিশীলতা বাড়ানোর বিশাল সুযোগ রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ দেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হবে।’
অনুষ্ঠানে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানের কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি চুক্তি করতে চাই, যা উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক। অর্থাৎ যেন একটি “উইন-উইন” চুক্তি হয়। আনন্দের সঙ্গে জানাতে পারি যে আমরা একটি চুক্তি সম্পন্ন করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। এটি একটি “উইন-উইন” চুক্তি হবে এবং বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ আগের শাসনামল টার্মিনাল-৩-এর জন্য যে চুক্তি রেখে গেছে, তার তুলনায় অনেক বেশি হবে। ডিসেম্বরে তৃতীয় টার্মিনালের একটি সফট ওপেনিং হবে এবং মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রমে যাবে।’
তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সম্ভাবনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এটি চালু হলে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বড় বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তৃতীয় টার্মিনাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের অপারেশনাল প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের স্থানান্তরের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অপারেশনাল প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে এবং আমরা তা করব।’
এর আগে পলিসি কনক্লেভে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জিডিপিতে এভিয়েশন খাতের অবদান খুবই কম। ভিয়েতনাম ও শ্রীলংকা এক্ষেত্রে খুব ভালো করছে। আমাদেরও এদিকে নজর দিতে হবে। আমাদের লোকাল এয়ারলাইনসগুলো চাহিদার ২০-৩০ শতাংশ কভার করে। বাকি অংশ কভার করছে বাইরের দেশগুলো। দেশের টাকা চলে যাচ্ছে, অথচ এ অর্থ আমরা নিজেদের দেশে রাখতে পারতাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতের জন্য আমরা এখনো প্রস্তুত নই। এভিয়েশন খাতের যথাযথ উন্নয়ন হলে তা জিডিপিতে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের সাপোর্ট দিতে পারবে। এভিয়েশনের উন্নয়নের জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করা উচিত। চাহিদার কারণে বিমানগুলো লিজ নিয়ে এ সংকট সমাধান করতে চাচ্ছে। তিন-চারটি কোম্পানি মিলে ২০২৭ সালের মধ্যে ৪০টি বিমান ভাড়া নিতে চাচ্ছে। দেশের এয়ারলাইনসগুলোও আগামী কয়েক বছরে বহর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিমান বাংলাদেশ, ইউএস-বাংলা, এয়ার অ্যাস্ট্রা ও নভোএয়ার—এ চারটি এয়ারলাইনস ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের বহরে মোট ৪০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।’
দেশের এভিয়েশন খাতের চ্যালেঞ্জ বিষয়ে বেবিচকের এ সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এর বাইরে বেসিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে লিডারশিপ ক্রাইসিস। আমাদের এখনো ইকোসিস্টেম তৈরি হয়নি। পাইলট, উদ্যোক্তা, টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা তেমন কিছুই করতে পারিনি। আমাদের ইনফ্রাস্ট্রাকচারও তেমনভাবে তৈরি হয়নি। উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। একাডেমিয়াগুলোকে এক্ষেত্রে দূরদর্শী ভূমিকা রাখতে হবে। কীভাবে আমাদের উন্নয়ন করতে পারি, সেদিকে নজর দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরেকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টোটাল এয়ার সার্ভিসেস (টাস) গ্রুপের চেয়ারম্যান কেএম মুজিবুল হক। তিনি বলেন, ‘বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আগামী ১৫ বছরের একটি রোডম্যাপ রয়েছে। এ রোডম্যাপ বাস্তবায়নে একটি কৌশলগত কমিটি ও স্টিয়ারিং কমিটি থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে দেশের এভিয়েশন বাজারের আকার প্রায় ৫-৬ বিলিয়ন ডলারের। পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলে সেটিকে ১৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বর্তমানে আমাদের বাজারের প্রায় ২২ শতাংশ দেশীয় এবং প্রায় ৭৭ শতাংশ বিদেশী এয়ারলাইনসের দখলে। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার বিমান ভ্রমণ বাবদ বিদেশে চলে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিমান খাতে আমাদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে আমরা কতটা আয় করছি, সেটিও ভাবতে হবে। বর্তমানে জিডিপিতে এভিয়েশনের অবদান শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এ খাতের সম্ভাবনাকে আরো বড় পরিসরে কাজে লাগানো।’
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটিমাত্র রানওয়ে থাকায় ট্যাক্সিওয়েতে অতিরিক্ত অপেক্ষার কারণে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকার জ্বালানি অপচয় এবং অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে দেশীয় এয়ার অপারেটরদের মতামত না নেয়া, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অতিরিক্ত ট্যাক্স ও ভ্যাট, চড়া জ্বালানি মূল্য, অসমান গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ এবং লাইসেন্স জটিলতা দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর সক্ষমতাকে দারুণভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অভাব, পর্যাপ্ত বিনোদন ব্যবস্থার ঘাটতি এবং কৃষিপণ্য রফতানিতে অতিরিক্ত ফি বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।’
১৯৮৪ সালের পুরনো সিভিল এভিয়েশন বিধিমালা পরিবর্তন করে ২০২৬ সালে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইউএস-বাংলার এমডি আরো বলেন, ‘এর ফলে উড়োজাহাজের ইঞ্জিন মেরামত প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি ইউএস-বাংলা ও বিমান বাংলাদেশসহ দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোর বছরে কোটি কোটি ডলার সাশ্রয় হবে। লিজিং কোম্পানির সহজ অর্থায়নে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের নতুন এয়ারক্রাফট কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, এয়ারপোর্ট অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং ভারত ও মালদ্বীপের মতো বিনিয়োগবান্ধব ও সমপরিবেশের (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) আন্তর্জাতিক নীতিমালা প্রণয়ন করা গেলে দেশীয় এভিয়েশন ও পর্যটন খাত দ্রুত এগিয়ে যাবে।’
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, ‘যদি প্রকল্প সঠিক হয় এবং তা থেকে আয় বা সুফল আসার নিশ্চয়তা থাকে, তবে অর্থায়নের অভাব হবে না। এমনকি আমাদের যে নিজস্ব সম্পদ রয়েছে, তা দিয়েই স্থানীয়ভাবে অর্থায়ন সম্ভব, বিদেশী অর্থায়নের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। তবে সেজন্য সঠিক পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। আমাদের অবকাঠামো ও উড়োজাহাজ থাকলেও মূল সমস্যা হলো দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব। মানসম্মত ব্যবস্থাপনা না থাকলে জাতীয় সম্পদকে জনগণ ও যাত্রীদের কল্যাণে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বিমান গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কার্গো, যাত্রীসেবা এবং ফ্লাইট আনা-নেয়ার পুরো প্রক্রিয়াতেই দুর্বলতা রয়েছে। আমি নিজেও একাধিকবার দেখেছি—ফ্লাইট ল্যান্ড করার পর বোর্ডিং ব্রিজ সংযুক্ত হলেও গেট বন্ধ থাকে। কেউ এসে দরজা খুলে দেয়ার জন্য ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। এ ধরনের অভিজ্ঞতা বিদেশী পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের প্রচণ্ড বিরক্ত করে। এসব সাধারণ বিষয়েও গভীর মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।’
ভৌগোলিক সুবিধার কারণে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে মন্তব্য করে বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থান, ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও কার্গো পরিবহন এবং বিমানবন্দর অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এভিয়েশন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবার উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে”সবার আগে বাংলাদেশ মূলমন্ত্র নিয়ে এভিয়েশন খাতকে বিশ্বমানে নিয়ে যাওয়া হবে।’
বণিক বার্তা আয়োজিত পলিসি কনক্লেভে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনীতিকরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী খাসিফ আলহামুদি, ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর ডেভিড মু, কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল জি ফ্রস্ট, ঢাকার রুশ দূতাবাসের অ্যাটাশে নাদেঝদা নাচারোভা, কাতার এয়ারওয়েজের কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ আল ইমাম, টার্কিশ এয়ারলাইনসের জেনারেল ম্যানেজার ইসলাম গুরে প্রমুখ। রাজনীতিবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, শওকত আরা, সুলতানা আহমেদ ও সুরাইয়া জেরিন রনি। আরো এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আশরোফা ইমদাদ।
অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, আব্দুল মোনেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এএসএম মঈনউদ্দীন মোনেম, বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আবদুল হক, অটো মিউজিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উল্লাহ ডন, টিএএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোরশেদুল আলম চাকলাদার।
ব্যাংক ও আর্থিক খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান এমএ খান বেলাল, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের যোগাযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক সাঈদা খানম।
শিক্ষাবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া, এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের (এএইউবি) উপাচার্য এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক পর্ষদ সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম, এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আতাউর রহমান, বেবিচকের পরিচালক (এয়ার ট্রান্সপোর্টেশন) মোহাম্মদ শফিউল আজম, পরিচালক (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট) আব্দুল করিম মোল্লা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক মো. রাশেদুল করিম, মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার, সাবেক মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ, বিমানের পরিচলক (বিপণন ও বিক্রয়) আশরাফুল আলম, এভিয়েশন, ট্রাভেল ও ট্যুরিজম, শিপিংসহ বহুমুখী খাতের প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সির সিনিয়র কনসালট্যান্ট এয়ার কমোডর (অব.) একেএম জিয়াউল হক, স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেএম মোস্তাফিজুর রহমান, ডিসকভারি ট্যুরস অ্যান্ড লজিস্টিকের সিইও জহিরুল আলম ভূঁইয়া, ভিশন ট্যুরস বিডির সিইও আবু রায়হান সরকার।
আরো উপস্থিত ছিলেন থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক বাসব বাগচী, ইউনাইটেড গ্রুপের গ্রুপ এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর খন্দকার সাঈদুল ইসলাম ও মো. আখতারুজ্জামান ভুঁইয়া, ইউনাইটেড গ্রুপের গ্রুপ চিফ অ্যাকাউন্টস কন্ট্রোলার মো. সোহরাব আলী খান, ইউনাইটেড টার্মিনালের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এয়ার কমোডর (অব.) মো. সালামত উল্লাহ, ইউনাইটেড লুব অয়েল লিমিটেডের ডিরেক্টর ওয়ায়েজ মাহমুদ, ইউনাইটেড পাওয়ারের সিইও মঈনুল ইসলাম খান, ইউনিমার্ট লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার গাজী মাহফুজুর রহমান, এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম, এনেক্স কমিউনিকেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান প্রমুখ।