কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রভাব

সড়ক ও বাসাবাড়িতে বর্জ্যের স্তূপ, দুর্গন্ধে নাকাল নগরবাসী

কোটা সংস্কার আন্দোলনে গত বৃহস্পতিবার থেকে অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী শহর ঢাকা। শুক্রবার রাত ১২টা থেকে দেশে কারফিউ জারি ও সেনা মোতায়েন করা হয়। টানা আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানীর জনজীবন। এর প্রভাব পড়েছে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপরও।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে গত বৃহস্পতিবার থেকে অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী শহর ঢাকা। শুক্রবার রাত ১২টা থেকে দেশে কারফিউ জারি ও সেনা মোতায়েন করা হয়। টানা আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানীর জনজীবন। এর প্রভাব পড়েছে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপরও। 

তিনদিন ধরে রাজধানীর বর্জ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। কার্যতই ভেঙে পড়েছে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। সড়কে জমা হচ্ছে বর্জ্যের স্তূপ। বাসাবাড়িতেও বর্জ্যের গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্দোলনের কারণে বর্জ্য সংগ্রহ সত্যিই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সব বর্জ্য একবারে সরিয়ে ফেলা হবে।

রাজধানীর পোস্তগোলা, জুরাইন, দোলাইরপাড়, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, ওয়ারী, মতিঝিল, গুলিস্তান, চানখাঁরপুল, নীলক্ষেত, হাতিরপুল ও কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে পড়ে আছে বর্জ্যের স্তূপ। এসব এলাকায় আসেনি কোনো বর্জ্য সংগ্রহের গাড়ি। ফলে বাসাবাড়িতে কয়েক দিনের বর্জ্য জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। 

গতকাল দুপুরে রাজধানীর জুরাইন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের মাঝে পড়ে আছে বর্জ্যের স্তূপ। এসব বর্জ্যের বেশির ভাগই ফল ও কাঁচাবাজারের উচ্ছিষ্ট। আরেকটু দূরে এগিয়ে দোলাই পাড় বাজার ও মীরহাজিরবাগ এলাকায় মূল সড়কে বর্জ্যের স্তূপ দেখা গেছে। স্থানীয় দোকান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশপাশের হোটেল ও বাসাবাড়ির বর্জ্য মানুষ মূল সড়কে এনে ফেলে যাচ্ছে। আগে প্রতিদিন বর্জ্যের গাড়ি এসে বর্জ্য নিয়ে যেত। গত তিনদিন বর্জ্যবাহী কোনো গাড়ি না আসায় সড়কের অর্ধেক অংশই বর্জ্যে ভরে গেছে।

মীরহাজিরবাবাগ এলাকার বিসমিল্লাহ হোটেলের মালিক নুরুজ্জামান মোল্লা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা মহল্লায় হোটেল চালাচ্ছি। অল্পস্বল্প বাজার করে কাস্টমার ধরে রাখছি। তবে বর্জ্য নিয়ে আমরা বেশ ঝামেলায় পড়েছি। তিনদিন ধরে কোনো বর্জ্য নেয়ার গাড়ি আসেনি। হোটেলের ভেতরও বর্জ্য ফেলে রাখার সুযোগ নেই। এক ধরনের বাধ্য হয়েই আমরা মীরহাজিরবাগ মূল সড়কে বর্জ্য ফেলে আসছি। দোকান ও বাসাবাড়ির বর্জ্যে রাস্তা ভরে গেছে। বর্জ্য দোকান থেকে বের করে দিয়েছি, কিন্তু সড়কের বর্জ্যের গন্ধে দোকানে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।’

এদিকে বর্জ্যবাহী গাড়ি না আসায় বিপাকে পড়েছেন রাজধানীর আবাসিক এলাকার বাসিন্দারাও। অনেকের ঘরেই বর্জ্য জমা হয়ে পড়েছে। অনেকে আবার ঘরের বর্জ্য সড়কে নিয়ে ফেলছেন। রাজধানীর ওয়ারীর বাসিন্দা ফারজানা আলম বলেন, ‘তিনদিন ধরে কোনো ময়লা নেয়ার গাড়ি আসেনি। প্রতিদিন কত ধরনের বর্জ্য জমে। মাছের বর্জ্য, রান্নার বর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য। একদিন বর্জ্য না ফেললেই অস্বস্তি লাগে। তিনদিন ধরে বাসায় বর্জ্য জমা পড়েছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা আপাতত বর্জ্য সংগ্রহ বন্ধ রেখেছি। কারণ বর্জ্য সংগ্রহ করে যাত্রাবাড়ী-রায়েরবাজার এলাকা দিয়ে মাতুয়াইল নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু সে সড়ক আন্দোলনকারীদের দখলে। ফলে বর্জ্য সংগ্রহ সত্যিই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একদিনেই বর্জ্যগুলো ল্যান্ডফিলে নিয়ে যাওয়া হবে।’

আরও