মৌলভীবাজারে বেহাল সড়কে বাস সার্ভিস বন্ধ, ভোগান্তির পাশাপাশি যোগ হয়েছে বাড়তি ভাড়া

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা সদর থেকে বালাগঞ্জঘাট পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ১৭ কিলোমিটার।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা সদর থেকে বালাগঞ্জঘাট পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ১৭ কিলোমিটার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে ছয় বছর আগে সড়ক বিভাগে হস্তান্তর করা হয় সড়কটি। এরপর আর উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি। সড়কে বিটুমিন ও ইটের খোয়া উঠে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বছর তিনেক আগে অতিরিক্ত ভাঙা অংশে ইটের সলিং করা হয়েছিল। এগুলোও এখন ভেঙে ছোট-বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় সড়কে বাস সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা। এতে চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি যাতায়াতে যোগ হয়েছে বাড়তি ভাড়া।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সড়কটি সংস্কারকাজের জন্য একটি প্রকল্প নেয়া হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গেলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বাজেট সংকট থাকায় সেটি বাতিল হয়ে যায়। এজন্য সংস্কারকাজ করা যায়নি।

স্থানীয়রা বাসিন্দারা বলছেন, রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়ক দিয়ে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল। অন্তত ১০ বছর আগে সংস্কারকাজ হয়েছিল। এরপর আর দৃশ্যমান কাজ হয়নি। তিন বছর আগে কিছু অংশে ইটের সলিং করেছিল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এগুলোও এখন ভেঙে গেছে।

সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা জানান, এ সড়ক দিয়ে এতদিন বাস সার্ভিস চালু ছিল। সম্প্রতি সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশাই এখন একমাত্র ভরসা। বাস বন্ধ হওয়ায় যাতায়াতে বাড়তি ভাড়া যোগ হয়েছে।

সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করা শিক্ষক মাসুদ আহমদ বলেন, ‘সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এজন্য গাড়ি দিয়ে চলাচল করা মুশকিল। সিএনজিচালিত অটোরিকশাও প্রায় সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। যাতায়াতে বাড়তি টাকা ও সময় ব্যয় হচ্ছে আমাদের।’

সরজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বিগত বছরগুলোয় বন্যায় সড়ক উপচে কাওয়াদিঘী হাওরে পানি প্রবেশ করায় বিভিন্ন অংশ ভেঙে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গা রাস্তা ডেবে ইটের খোয়া বের হয়ে গেছে। এতে বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। আবার মূল সড়কের বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে ফাটল। বিশেষ করে রাজনগর সদর, আজাদের বাজার, মধুরদোকান, রাতিরের দোকানসহ বিভিন্ন জায়গায় গর্তে পানি জমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

সড়ক বিভাগের তথ্যমতে, সড়ক মেরামতের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বিগত সরকারের আমলে পাস হয়। গত বছরের জুলাইতে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর সেটি বাতিল হয়ে যায়। প্রকল্পের আওতায় সড়কটি দুই লেন ও আঁকাবাঁকা জায়গা কেটে ভূমি অধিগ্রহণসহ সোজা করা হবে। বালাগঞ্জ-খেয়াঘাটবাজার কুশিয়ারা নদীর ওপর সেতু তৈরি করতে নকশাসহ একটি প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সড়কটি ২০১৯ সালে এলজিইডি থেকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত বছর সড়কটির কিছু অংশ মেরামত করা হয়। মেরামতের জন্য ২০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে। সেটি অনুমোদন পেলে ঠিকাদার কাজ শুরু করবেন।’

আরও