দক্ষিণাঞ্চলে ফেরি পারাপারে দুর্ভোগ
কমেনি এক দশকেও। সড়ক ও জনপথ
(সওজ) বিভাগের
২০টি ফেরির মধ্যে ১৮টিই বহুদিন আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। দুটি ফেরি নিয়মিত চলে।
বাকিগুলো মাঝেমধ্যেই বিকল থাকে। ফলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি
হলেও ফেরি সংকটের কারণে সে উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
সওজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফেরির
ইঞ্জিনের মেয়াদ কোনোটার এক দশক আবার অনেকটার দেড় যুগ পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে একটিও
নতুন ফেরি যুক্ত হয়নি। তবে সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম
নেছারাবাদের (স্বরূপকাঠি) সন্ধ্যা নদীতে এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার
মীরার উদ্যোগে
বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীতে নতুন ফেরি
আনার কারণে এখন দুটি ফেরি সবসময় সচল অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বর্তমান
সরকারের সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করা
হয়েছে। এতে এ অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। এতে নতুন কয়েকটি
ঘাটে ফেরির চাহিদা তৈরি হয়েছে।
সওজের বরিশাল সার্কেল সূত্রে জানা
গেছে, বরিশাল বিভাগের লক্ষ্মীপাশা,
গোমা,
নেহালগঞ্জ,
মীরগঞ্জ,
বেলতলা ঘাটে পাঁচটি; পিরোজপুর
জেলার চরখালী, বেকুটিয়া, টগড়া ফেরি, আমড়াঝুড়ি ও স্বরূপকাঠিতে চারটি;
পটুয়াখালী জেলার লেবুখালী, বগা, গলাচিপা, পায়রাকুঞ্জ
ও নলুয়াবাহের চরে পাঁচটি; বরগুনা জেলার আমতলী ও বরইতলীতে দুটি এবং ঝলকাঠি জেলার ষাটপাকিয়া ও
আমুয়াতে দুটি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে লেবুখালী,
চরখালী,
আমতলী ও বেকুটিয়া ব্যস্ততম ফেরিঘাট। ২৪ ঘণ্টাই
যানবাহনের ভিড় থাকে। এসব ঘাটে ৩১৫ অশ্বশক্তির ইউটি
টাইপ-১ ও ২০০ অশ্বশক্তির ইউটি টাইপ-২ ফেরি রয়েছে।
কিন্তু সবই মেয়াদোত্তীর্ণ। বাকিগুলো বছরজুড়ে নিয়মতি মেরামতের মধ্যেই থাকে।
ফেরি রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের উপসহকারী
প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে নির্মিত এসব ফেরির ইঞ্জিনের
বেশির ভাগই আনা হয়েছে ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে। এর মধ্যে প্রায় সব ইঞ্জিনের
সিলিন্ডার, পিস্টন, লাইনারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্রোতের বিপরীতে চলতে গেলে প্রায়ই বিকল
হয়ে যায়। মাঝনদীতে বিপাকে পড়ে যাত্রীরা। সূত্রমতে, বয়স ২৫ বছর পার হলেই এসব ইঞ্জিনের
ক্ষমতা কমে যায়।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ
ঘাটগুলোর জন্য সবসময় বাড়তি ইঞ্জিন প্রস্তুত রাখতে হয়। ১১-১৩ লাখ টাকা খরচ করে
যন্ত্রাংশ লাগিয়ে চলাচলের উপযোগী করা হয়। কিন্তু দেড়-দুই মাসের
মধ্যেই আবার বিকল হয়ে যায়। এছাড়া ইজারাদাররা সময়মতো ইঞ্জিন অয়েল (লুব্রিক্যান্ট) পরির্বতন
না করার কারণেও ইঞ্জিন ঘন ঘন বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে ফেরি রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ
বরিশাল সার্কেলের জ্যেষ্ঠ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শামসুল হক জানান, ৩১৫
অশ্বশক্তির ইউটি টাইপ-১ ফেরির ধারণক্ষমতা ১১০ টন,
যা মাঝারি আকারের ১২টি গাড়ি বহন করতে পারে। ২০০
অশ্বশক্তির ইউটি টাইপ-২ ফেরির ধারণক্ষমতা ৭০ টন,
যা ছয়টি গাড়ি বহন করতে সক্ষম। তবে পাথর বা
রডবাহী প্রতিটি ট্রাকে অতিরিক্ত মাল বহনের কারণেও ফেরিগুলো দ্রুত কার্যক্ষমতা
হারিয়ে ফেলছে। এতে ফেরির ইঞ্জিনের সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোও
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক যুগ ধরে ফেরির
অবকাঠামোর জরাজীর্ণতা বর্তমানে অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন
প্রকৌশলী শামসুল হক।