নেত্রকোনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের চল্লিশা বাইপাস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা পৌরসভার পারলা এলাকার আন্তঃজেলা বাসসট্যান্ড থেকে মহুয়া সার্ভিসের একটি বাস ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা বাসপাই মোড়ে পৌঁছে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয় বাসটি। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও দুই মেয়ে নিহত হন। পরে পাঁচজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে অটোরিকশাচালক মারা যান।
নিহতরা হলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার আমলী কেশবপুর গ্রামের আইনুল হকের স্ত্রী নূর জাহান বেগম (৪৫) তার বড় মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৫), ছোট মেয়ে সুমাইয়া আক্তার ইতি (১০) ও অটোরিকশা চালক রেহান মিয়া (৩৫)।
এদিকে ঘটনার পরপরই নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। খবর পেয়ে নেত্রকোনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল বাকিউল বারি ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কে স্পিড-ব্রেকারসহ গোল চত্বর নির্মাণের আশ্বাস দিলে দুপুর দেড়টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
নেত্রকোনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার বলেন, বাস চাপায় প্রথমে তিনজন নিহত হয়। পরে হাসপাতালে অটোরিকশাচালক রেহান মিয়া মারা যান। নিহতদের মরদেহ নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। বাসটি শ্যামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বাসের চালক ও হেল্পার পালিয়ে গেছে।
নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মাজহারুল আমিন বলেন, বাসচাপায় নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত এখনও হয়নি। তাদের মরদেহ হাসপাতালের রাখা হয়েছে।