সন্ত্রাসের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সন্ত্রাসের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। নিজের ধান্দা ও সুবিধার জন্য বাড়ি, জমি দখল, অন্যের গোয়াল থেকে গরু নিয়ে যায়, লোকের পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায়-এটিই সন্ত্রাসবাদীদের কাজ। যতটুকু জেনেছি মিটফোর্ডে ভাঙারির ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। যিনি নিহত হয়েছেন এবং যারা ঘাতক তাদের মধ্যে এ নিয়ে ঝগড়া হয়েছে। দখলদারত্ব নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। এটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। এর সঙ্গে রাজনীতির কী সম্পর্ক? কিছু রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে রঙচং দিয়ে কালার করার চেষ্টা করছে। ওই ঘটনার সঙ্গে বিএনপি দল হিসেবে কোথায় জড়িত? দলের নামধারী কেউ থাকতে পারে।
রাজধানীর মিটফোর্ডে ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাকে হৃদয়বিদারক অ্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনার সত্য বিষয়টি অনুসন্ধান করার দায়িত্ব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। ঘটনার সঙ্গে দল হিসেবে বিএনপি কোথায় জড়িত সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি। শনিবার (১২ জুলাই) ঢাকা উত্তর মহানগর বিএনপির মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রিজভী এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, মিটফোর্ডের ঘটনায় বিএনপির একটি অঙ্গসংগঠনের নামে যাদের পাওয়া গেছে তাদেরকে ওই রাতেই আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপি একটি বৃহৎ পরিবার, কোনো ছিদ্রপথে দু-একজন দুষ্কৃতকারী ঢুকে পড়ে সেটি সবসময় খোঁজ রাখা যায় না। কিন্তু দুষ্কৃতকারীদের কোনোভাবে যদি চিহ্নিত করা যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং বহিষ্কার করতে কখনোই দল কার্পণ্য করেনি। এ সময় উদাহরণ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, গত পরশু রাতে পাবনার সুজানগরে বিএনপির দুই গ্রুপের হানাহানি ছিল। রাত দেড়টার দিকে আমরা ১১-১২ জনকে বহিষ্কার করেছি।
তিনি বলেন, এ ঘটনা দলের পদ-পদবী, আধিপত্য কিংবা দলের মতপার্থক্য নিয়ে হয়নি। ঝগড়া ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক। এই ব্যবসায়িক সমস্যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। অনেক সময় তারা নিজেরাই সমঝোতা করেছে। তৃণমূল লেভেলে সবসময় সব কিছু দেখাও যায় না। যারা অপরাধে জড়িত তাদেরকে কখনোই বিএনপি স্থান দেয় না।
দুই-একটি রাজনৈতিক দল এসব ঘটনা বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, দু-একটি রাজনৈতিক দল মিছিল করে এই হত্যাকাণ্ডের দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। আমরা শেখ হাসিনার মতো নিশ্চুপ থাকিনি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি, তাদের বহিষ্কার করেছি এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। তাহলে আপনারা মিছিল করছেন কেন? এটা তো স্পষ্ট রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ভুলে যাইনি—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়েছিল। বাস থেকে তুলে নিয়ে ছাত্রদল নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই নৃশংসতা ও সহিংসতার ইতিহাস মানুষ এখনও ভুলে যায়নি। এখন আপনারা সেই স্মৃতি ভুলিয়ে দিয়ে বিএনপির ইতিবাচক দিকগুলো উপেক্ষা করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন, এতে কোনো লাভ হবে না।’
খুলনায় রগ কেটে হত্যাকাণ্ড এবং চাঁদপুরে মসজিদের ভেতরে ইমামকে কুপিয়ে হত্যার উদাহরণ টেনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এসব ঘটনায় কাউকে দায়ী করতে দেখিনি। অথচ মিটফোর্ডের ঘটনা নিয়ে বিএনপিকে টার্গেট করা হচ্ছে। আমরা সোহাগ হত্যাসহ সব হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।