পানিপ্রবাহ ফেরাতে এক বছর আগে পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে এসব খাল খনন করা হয়। দরপত্র অনুযায়ী খননকাজের মেয়াদ ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হলেও খাল আগের অবস্থায় রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার বাসিন্দারা। ফলে বর্ষার আগেই দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। আসন্ন বর্ষায় তা চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল খনন যেন কাগজে-কলমেই বন্দি। শহরের দুই একটি খালে নামমাত্র খনন দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থ লোপাট হয়েছে। দখল-দূষণ আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। বছরের পর বছর খনন না করায় আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে খালগুলো। একই সঙ্গে রোগজীবাণু আর দুর্গন্ধে নাকাল শহরের মানুষ।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সাতটি খাল খনন শুরু হয়। ১ কোটি ৩৩ লাখ ৩৭৭ টাকা ব্যয়ে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমীর বিল্ডার্স কাজটি পায়। দরপত্র অনুযায়ী কাজের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘শহরের সাতটি খাল খননের নামে পৌরসভা বড় অংকের টাকা লোপাট করেছে। সাত খালের মধ্যে মাত্র তিনটিতে নামমাত্র খনন দেখানো হয়েছে। অন্য খালগুলোতে কোনো কাজই হয়নি’।
তবে এ ব্যাপারে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার একে অপরকে দুষছে। ঠিকাদার এবিএম সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত ৫০ বছরেও খালগুলো খনন করা হয়নি। তাই দখল-দূষণের মুখে নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে খননকাজ করতে হয়েছে। পৌরসভা কাজের বাকি অর্ধেক পরিমাণ বিল এখনো পরিশোধ করছে না।’
আর এ ব্যাপারে ঝালকাঠি পৌরসভার প্রকৌশলী টিএম রেজাউল হক রিজভী বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। শিগগিরই খালগুলোর বাকি খননকাজ শেষ করে পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।’