মাগুরায় তরুণ প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান নিজের প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করছেন তিনি। উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে মাসে তার আয় হচ্ছে প্রায় ৮ হাজার টাকা।
মাগুরা সদর উপজেলার মঘী ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের আবু তাহের মণ্ডলের ছেলে আখতারুজ্জামান। তিনি সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনের এ উদ্যোগ নিয়ে তিনি স্থানীয়ভাবে সাড়া ফেলেছেন।
২০২৩ সালে আখতারুজ্জামান ঢাকার নবাবপুর থেকে এজেন্সির মাধ্যমে বিএসটিআই ও স্রেডা অনুমোদিত ‘ওমেপা’ ও ‘জিংকো জে.এ’ কোম্পানির নয়টি সোলার প্যানেল সংগ্রহ করেন। পরে নিজের একতলা ভবনের ছাদে এগুলো স্থাপন করে তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেন। প্রতিটি প্যানেলের উৎপাদনক্ষমতা ৫৫০-৬৩০ ওয়াট। ‘সালেহা অয়েল মিল’ নামে নেট মিটারিং প্রকল্প বাস্তবায়নে তার মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রকল্পটি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে বলে তিনি জানান।
অনগ্রিড ইনভার্টার প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত এ বিদ্যুৎ সরাসরি মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। মাগুরা-যশোর সড়কের কেচুয়াডুবি এলাকায় অবস্থিত তার নিজ প্রতিষ্ঠান ‘সালেহা অয়েল মিল’ ও ‘সালেহা এলপিজি স্টেশন’-এর প্রয়োজনীয় আলোর চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ এ সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ হচ্ছে। নিজের চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
আখতারুজ্জামান জানান, তিনি প্রতি মাসে প্রায় ৭০০ ইউনিট উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছেন। প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসাবে এ থেকে মাসে তার প্রায় ৮ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।
প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব এবং এর মাধ্যমে বিদ্যুতের ওপর চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে এ প্রকল্পকে আরো বড় পরিসরে নেয়ার ইচ্ছা রয়েছে আমার।’
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এসএম শাহীন আহসান জানান, সরকার ২০৩০ সাল নাগাদ রুফটফ সোলারের মাধ্যমে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর একটি। আখতারুজ্জামান তার স্থাপিত সোলার প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে এ কাজে কিছুটা অবদান রাখছেন। তার এ সময়োপযোগী ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এমন উদ্যোগ অন্যদেরও উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তার এ উদ্যোগ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নেই। সৌরবিদ্যুৎ বিষয়ে আগ্রহী তরুণদেরও তিনি হাতে-কলমে ধারণা দিচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষিত তরুণরা তার প্রকল্প দেখতে ও সৌরবিদ্যুৎ সম্পর্কে জানতে আসছেন।
আখতারুজ্জামানের প্রতিষ্ঠান সালেহা এলপিজির কর্মচারী তানভীর হাসান বলেন, ‘এ সোলার প্রকল্প দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে তরুণরা এখানে এসে বিভিন্ন বিষয়ে জানার চেষ্টা করছেন। আমরা প্রতিষ্ঠানে শ্রম দিচ্ছি। আমি চাই, প্রতিষ্ঠানটি আরো বড় হোক এবং আরো মানুষের কর্মসংস্থান হোক।’
সোলার উদ্যোক্তা রনি মল্লিক জানান, তার বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল রয়েছে। সেটি তার বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাচ্ছে। আখতারুজ্জামানের কাছ থেকে তিনি সৌরবিদ্যুতের বিভিন্ন বিষয় শিখছেন। ভবিষ্যতে আরো সোলার প্যানেল স্থাপন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে চান রনি মল্লিক।