চৌদ্দগ্রামে জামায়াত আমির

আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার চাই না

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের মানুষ একটি মৌলিক পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তন ১৩ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) থেকেই দৃশ্যমান হবে। এ পরিবর্তনের মূল শক্তি হবে যুবসমাজ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের মানুষ একটি মৌলিক পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তন ১৩ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) থেকেই দৃশ্যমান হবে। এ পরিবর্তনের মূল শক্তি হবে যুবসমাজ। আমরা আর কোনো আধিপত্যবাদ মানব না, কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারও আর দেখতে চাই না। আমরা চাই একটি মানবিক বাংলাদেশ।’

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গতকাল আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এ কথা বলেন। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত আয়োজিত এ জনসভায় নাম উল্লেখ না করে একটি দলের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একসময় আপনারাও মজলুম ছিলেন। এখন কেন জালিম হচ্ছেন? আমরা আশা করি, আপনারা সংশোধন হবেন। যারা সংশোধন হবেন, তাদের বুকে টেনে নেব। যারা হবেন না, তাদের প্রতি আমাদের কঠোর হতে হবে। এ নির্বাচন কোনো একক দলের বিজয়ের জন্য নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। আমরা জামায়াতের শাসন কায়েম করতে চাই না। আমরা চাই একটি মানবিক, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশের মানুষ ১২ তারিখের নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ থেকে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চায়। এ পরিবর্তন আসবে সমাজের আকাঙ্ক্ষা, মায়েদের নিরাপত্তা, নারীদের সম্মান এবং দেশের সার্বিক ইজ্জতের ওপর ভর করে। ভবিষ্যৎ সরকার হবে জনকল্যাণমূলক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে হবে আপসহীন।’

কওমি মাদ্রাসা বন্ধের অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক’ দাবি করে শফিকুর রহমান জানান, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদ্রাসার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট আলেমদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আগামী দিনে দেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষ পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির।

জামায়াত নির্বাচনে বিজয়ী হলে জাতীয় স্বার্থে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, তবে শর্ত থাকবে দুর্নীতি পরিহার, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জুলাই আন্দোলনের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন।

অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘৫ তারিখের পর দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে কার কী চরিত্র ও কর্মকাণ্ড। অতীতের হিসাব অতীতের খাতায় রেখে বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিলেই সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হবে না। যারা মানুষের সম্পদ, জীবন ও সম্মানহানিতে জড়িত, এমনকি মায়েদের ইজ্জত নিয়েও হুমকি দেয়, তাদের হাতে কি দেশের কোটি কোটি মা নিরাপদ? জামায়াত সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা হবে।’

চৌদ্দগ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি আপনারা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের ওপর আস্থা রেখে তাকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেন, তবে চৌদ্দগ্রাম একজন সিনিয়র মন্ত্রিপরিষদ সদস্য পাবে। এ সুযোগ কাজে লাগাবেন কিনা, সেটি সম্পূর্ণভাবে চৌদ্দগ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত।’

জনসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম ও এটিএম মাছুম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আরও