বিদেশী ঋণের সুদে উৎসে কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এনবিআরের

বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের সময় সেখান থেকে ২০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নেয়ার নিয়ম রয়েছে। চলতি বছরের জুনে কার্যকর হওয়া নতুন আয়কর আইনে এ নিয়ম চালু করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় আপত্তি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকেও এ নিয়ম রহিত করার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, বিদেশী ঋণদাতাদের সুদ আয়ের ওপর এ উৎসে কর কাটা

বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের সময় সেখান থেকে ২০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নেয়ার নিয়ম রয়েছে। চলতি বছরের জুনে কার্যকর হওয়া নতুন আয়কর আইনে এ নিয়ম চালু করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় আপত্তি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকেও এ নিয়ম রহিত করার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, বিদেশী ঋণদাতাদের সুদ আয়ের ওপর এ উৎসে কর কাটা হলেও ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা না থাকায় এর চাপ শেষ পর্যন্ত ঋণগ্রহীতার ওপরই পড়বে। দেশের বৈদেশিক ঋণের সুদহার পরিশোধ এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চে। এ অবস্থায় বৈদেশিক ঋণের ওপর আরোপিত ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার করে নেয়া প্রয়োজন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুরোধ এবং ব্যবসায়ী-ব্যাংকারদের দাবির মুখে বিদেশী ঋণের সুদের ওপর থেকে উৎসে কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের এসআরও জারি হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

বৈদেশিক ঋণের সুদহারের ওপর আরোপিত ২০ শতাংশ উৎসে করের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) এবং বিদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। 

এ বিষয় এনবিআরকে দেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক চিঠিতে এনবিআরকে জানানো হয়, বিদেশী ঋণদাতার ওপর উৎসে কর কাটা হলেও অতিরিক্ত এ করের চাপ গিয়ে ঋণগ্রহীতার ওপরই পড়ছে। এর কারণ হলো দেশে ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা নেই। এছাড়া গ্রস আপ ভিত্তিতে বিবেচনা করলে কার্যকর করহার ২০ শতাংশের জায়গায় ২৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। ফলে বৈদেশিক ঋণের খরচ এক-চতুর্থাংশ বেড়ে যাবে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, ‌দেশে ঋণের সুদহার ও বিনিময় হারের ঝুঁকির কারণে বৈদেশিক ঋণ নিরুৎসাহিত হবে। ফলে দেশে এক্ষেত্রে উৎসে কর  বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ও বিনিময় হারের ওপর আরো চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে বিদেশী ঋণের সুদের ওপর কর আরোপের আপত্তি জানিয়েছিল বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনও। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) পক্ষ থেকে এ নিয়ে এনবিআরে চিঠিও দেয়া হয়েছিল। ওই চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সব ব্যবসা মূলত আমদানিনির্ভর। এছাড়া সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মেশিনারিজ ও শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমেই আমদানি করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির কারণে সময়মতো এলসি খোলা ও আমদানি করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যর্থ হচ্ছে। 

বিদেশী ঋণের সুদে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশও (এবিবি)। সংগঠনটির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‌আমাদের ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট পজিটিভ করার জন্য সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সবাই চেষ্টা করছে। এখানে অনেক বেশি অবদান রয়েছে বায়ার্স ক্রেডিটের এবং আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে বিদেশী মুদ্রায় তহবিলও আনতাম। ২০২২ সালেও এসব বিদেশী ঋণের সুদের হার ছিল ১ শতাংশ, যা এখন বাড়তে বাড়তে ৫ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি বিদেশী মুদ্রার বিপরীতে টাকারও ব্যাপক অবমূল্যায়ন হয়েছে। এর সঙ্গে যদি করের অতিরিক্ত বোঝা যোগ হয়, তাহলে তা আরো চাপ তৈরি করবে। এ উৎসে কর প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও একটি ডিও লেটার দেয়া হয়েছিল। এটা ভালো যে দেরিতে হলেও এনবিআর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে এবং এর জন্য কাজ করছে। এনবিআর এটি যত তাড়াতাড়ি বাস্তবায়ন করবে ততই আমাদের জন্য মঙ্গলজনক।’

আরও