ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আরিফ খান। গতকাল তিনি প্রতিষ্ঠানটির পর্ষদের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত আইডিএলসির পর্ষদ তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। এর আগে ২০১১ সালে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগেও তিনি আইডিএলসি ছেড়ে গিয়েছিলেন।
আরিফ খানের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিএলসির চেয়ারম্যান আজিজ আল মাহমুদ বণিক বার্তাকে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন আমাদের সঙ্গে ছিলেন। গতকাল তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠানে সময় দেবেন বলে তিনি আইডিএলসি ছেড়ে যাচ্ছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্রটি গৃহীত না হলেও আমরা তাকে মৌখিক সম্মতি দিয়েছি।
১৯৯১ সালে এবি ব্যাংকের শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু হয় আরিফ খানের। তার ৩০ বছরের কর্মজীবনের বড় অংশই কেটেছে আইডিএলসি ফাইন্যান্সে। ২০১১ সালের ৩০ মে তিনি বিএসইসির সদস্য হিসেবে যোগ দেন।
২০১৪ সালে প্রথম দফার মেয়াদ শেষে দ্বিতীয় দফায় চার বছরের জন্য কমিশনার হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয় সরকার। অবশ্য এর দুই বছরের মাথায় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। গতকাল পর্যন্ত তিনি এ পদে প্রতিষ্ঠানটিতে দায়িত্ব পালন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএসইসির কমিশনার হিসেবে যোগ দেয়ার আগে আরিফ খান যখন আইডিএলসি ফাইন্যান্স ছেড়ে গিয়েছিলেন, সে সময় তিনি জেনিথ ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গড়ে তোলেন। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এবার আইডিএলসি থেকে পদত্যাগ করার পর তার এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
পদত্যাগ করার কারণ জানতে চাইলে আরিফ খান বণিক বার্তাকে বলেন, আমি ৩০ বছর করপোরেট জগতে চাকরি করেছি। আমার নেতৃত্বে আইডিএলসি ব্যবসায়িকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করেছে। প্রতিষ্ঠানের ভালো মুনাফাও হয়েছে। কিন্তু সিইও হিসেবে বেতন-ভাতার বাইরে প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ভাগ পাওয়ার সুযোগ কিংবা চর্চা আমাদের এখানে নেই। তাই আমি চিন্তা করলাম আমার এতদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজে কিছু করার। আমি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার হই তাহলে সেখানে কিন্তু আমি মুনাফার ভাগও পাব।
জেনিথ ইনভেস্টমেন্টে আবারো ফিরে যাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না সেখানে যাচ্ছি না। এ মুহূর্তে বেশ কয়েকটি সুযোগ রয়েছে আমার কাছে। এর মধ্যে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলতে পারি কিংবা বিদ্যামান কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার হিসেবেও যোগ দিতে পারি। তবে ফান্ড ম্যানেজমেন্ট, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, ব্রোকারেজ সার্ভিস এসব খাতের ব্যবসার সঙ্গেই সম্পৃক্ত হব।