প্রতারণার অভিযোগ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

২০২৬ সালের ৩ জুলাই ডব্লিউএইচও-কে দেয়া সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের পৃথক একটি চিঠিতে বলা হয়, সংস্থাটি তার বিরুদ্ধে ‘চীন সফরসংক্রান্ত আর্থিক প্রতারণা’ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেয়ার অভিযোগ এনেছে। ওই চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে। প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগে জাতিসংঘের এ সংস্থা ও বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মধ্যে গতকাল পদত্যাগপত্র জমা দেন সায়মা। এক প্রতিবেদনে চিঠিটি দেখার কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের শেষ দিকে তাকে অবৈতনিক প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে প্রথমবার ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করার পর এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।

২০২৬ সালের ৩ জুলাই ডব্লিউএইচও-কে দেয়া সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের পৃথক একটি চিঠিতে বলা হয়, সংস্থাটি তার বিরুদ্ধে ‘চীন সফরসংক্রান্ত আর্থিক প্রতারণা’ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেয়ার অভিযোগ এনেছে। ওই চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও আনা হয়েছে বলে সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসকে দেয়া পদত্যাগপত্রে জানিয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ। তার দাবি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগ দেয়ার আগেই ওই জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় তিনি ওই জমির অধিকারী ছিলেন।

গতকাল রাতে টেড্রোসকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, ‘আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম, যা আমি আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছি।’

তিনি লেখেন, ‘আপনি যেহেতু আমাকে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে যাচ্ছেন, তাই ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের ওপর আমি সব ধরনের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছি। তাছাড়া, প্রায় এক বছর ধরে আপনার সিদ্ধান্তে অবৈতনিক ছুটিতে থাকার কারণে আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এ বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ডব্লিউএইচও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদ ছুটিতে আছেন। তবে গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে তার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল তারা।

এর আগে দুটি সূত্র জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরানোর পরিকল্পনা করছিল ডব্লিউএইচও। তাদের একজন জানান, ১২ অক্টোবর এ পদের জন্য মনোনয়ন ঘোষণা, ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাই এবং ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্র দুটি নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী স্বাস্থ্যনীতি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ডব্লিউএইচও-র আঞ্চলিক পরিচালকরা। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নেয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার নীতি বাস্তবায়ন অন্তর্ভুক্ত। সদস্যরাষ্ট্রগুলো প্রতি পাঁচ বছর পর আঞ্চলিক পরিচালকদের নির্বাচন করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারত রয়েছে।

জুলাইয়ে আইনজীবীদের মাধ্যমে দেয়া চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ ভ্রমণসংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, নিয়মিত ব্যয় ফেরতের আবেদন প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বে থাকা একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছে এবং অর্থের অঙ্ক ছিল ৯০১ ডলার।

শিক্ষাগত যোগ্যতার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং এ যোগ্যতার বিষয়ে তিনি ডব্লিউএইচও-র মহাপরিচালক টেড্রোসকে অবহিত করেছিলেন।

আরও