চারতলা ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এ হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও তা সম্ভব হয়নি। দফায় দফায় সময় বাড়লেও গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য বিভাগের রশি টানাটানিতে প্রকল্পটি এখন শুধুই এক বিশাল কংক্রিটের স্থাপনা।
গণপূর্ত অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জে শিশুদের জন্য ২০১৭ সালে নির্মাণ করা হয় ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল। নির্মাণকাজে ব্যয় হয় ১৯ কোটি ৪৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ভবনসহ আরো কিছু অবকাঠামো প্রস্তুত হলেও বিদ্যুতের সাব-স্টেশন ও জনবল না থাকায় সাত বছর ধরে পড়ে আছে হাসপাতালটি। অথচ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিনই বাড়ছে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা। শয্যা সংকটে এক বিছানায় দুই শিশু, এমনকি জায়গা না পেয়ে মেঝেতে চলছে অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা। সেবা দিতে গিয়েও হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। হাসপাতালটি চালু হলে এ চিত্র বদলানোর কথা ছিল।
শেবাচিম হাসপাতালের একজন সহকারী পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শিশু হাসপাতাল চালু না হওয়ায় শেবাচিমের শিশু ওয়ার্ডকে বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে। কিন্তু এখানে শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ৩৬টি শয্যা আছে। অথচ সেখানে প্রতিদিনই ধারণক্ষমতার চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। একই শয্যায় দুজন, অনেকেই মেঝেতে শয্যা পেতেছে চিকিৎসার আশায়।’
গণপূর্ত বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম বলেন, ‘ভবনের অবকাঠামোগত নির্মাণকাজসহ বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনও বসানো হয়েছে। ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’ বরিশালের সিভিল সার্জন এসএম মঞ্জুর ই এলাহী বলেন, ‘হাসপাতালটি চালু করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টসহ প্রায় ৩০০ জন জনবল প্রয়োজন। পাশাপাশি ইনকিউবেটর ও লাইফ সাপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের চাহিদাও পাঠানো হয়েছে। এসব নিশ্চিত করা না গেলে সেবা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়।’
দীর্ঘদিন ধরে চলা এ স্থবিরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), বরিশালের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জনবল আর সরঞ্জামের দোহাই দিয়ে গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য বিভাগের এ রশি টানাটানি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে বিভাগের কয়েক লাখ শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।’
এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর বলেন, ‘হাসপাতালটি কে পরিচালনা করবেন সে রকম কোনো আদেশ এখনো মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়নি। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া শিশু হাসপাতালে রোগী ভর্তি করে সেবা দেয়া সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘শিশু হাসপাতালের ধারণক্ষমতা ২০০ বেডের। কিন্তু এখন পর্যন্ত চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ নিয়োগই দেয়া হয়নি। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও সাব-স্টেশন নেই। অবকাঠামোরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে এখনো। তবে হাসপাতালটি যে চালু করা দরকার, সে বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সব দপ্তর অবগত আছে।’
বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও হাসপাতালটি চালু না হওয়া দুঃখজনক। সব জটিলতা নিরসন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি চালুর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’