চাঁদপুরে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা

কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে তল্লাশি চালিয়ে জানা যায়, একদল দুর্বৃত্ত ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে এবং কেন্দ্রের সামনে রাস্তায় ২১টি ব্যালট পেপার ফেলে রেখে যায়। এছাড়া কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে থেকে সর্বমোট ২০৩টি সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন চাঁদপুর সদর উপজেলায় ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। দক্ষিণ গুনরাজদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ, ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা ও সিলমারা ২০৩টি ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনায় এ মামলা করা হয়।

আদালতের নির্দেশে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় করা এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহম্মেদ।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে নির্বাচনী আসন ২৬২, চাঁদপুর-৩ এর আওতাধীন দক্ষিণ গুনরাজদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে গোলযোগের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ঘটনাস্থলে গিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেখতে পান, কেন্দ্রে দায়িত্বরত আনসার ও পুলিশ সদস্যরা কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে ধাওয়া করছেন। কেন্দ্রে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে প্রায় ৪০-৫০ জন ব্যক্তি দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে তল্লাশি চালিয়ে জানা যায়, একদল দুর্বৃত্ত ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে এবং কেন্দ্রের সামনে রাস্তায় ২১টি ব্যালট পেপার ফেলে রেখে যায়। এছাড়া কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে থেকে সর্বমোট ২০৩টি সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়। যা কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নেয়া বা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে অপসারণের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রমাণিত হয়।

ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশক্রমে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধার ব্যালট পেপার জব্দ, তালিকা জব্দ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

এ ঘটনায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতের নির্দেশে গত শুক্রবার বেঞ্চ সহকারী মো. ইয়ামিন হোসাইন চাঁদপুর সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন।

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন জানান, এজাহারে ভিত্তিতে সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তার তদন্ত চলছে।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহম্মেদ বলেন, ঘটনার পর আমি নিজেও ওই কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। এরইমধ্যে মামলাটি তদন্ত করার জন্য থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফেরদৌসকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আরও