চট্টগ্রাম বন্দরের আরো ৭ কর্মীকে বদলি

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ পার্সোনেল অফিসার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি বদলির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওই তারিখেই বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

চলমান অস্থিরতার মধ্যে আরো সাত কর্মীকে বদলি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। জরুরি দাফতরিক ও অপারেশনাল কাজে প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে এসব কর্মীকে নিজ নিজ বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকায় বিভিন্ন দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে বন্দরের মোট ১১ কর্মীকে বদলি করা হলো।

বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, শাকিল রহমান, মানিক মিয়া ও শামসু মিয়া। তারা বন্দরের পরিবহন, প্রশাসন, বিদ্যুৎ, যান্ত্রিক, পরিকল্পনা ও সেশন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। নতুন আদেশ অনুযায়ী তাদের পানশী ও কমলাপুর আইসিডিসহ ঢাকার বিভিন্ন সরকারি দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ পার্সোনেল অফিসার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি বদলির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওই তারিখেই বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গতকাল বন্দরের চার কর্মচারীকে ঢাকা পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করেছে কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অবশ্য এ বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওই চার কর্মচারী হলেন অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির (অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগ), ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন (১ম শ্রেণী -নৌ বিভাগ), উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম (অর্থ ও হিসাব বিভাগ), এস এস খালাসী ​মো. ফরিদুর রহমান (প্রকৌশল বিভাগ)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চলমান কর্মসূচি ও শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে এ বদলি সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক রদবদলের বাইরে দেখা হচ্ছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এ আদেশ আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে এনসিটি ইজারা এবং কর্মচারীদের বদলির প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আট ঘণ্টা কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারীরা। 'চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের' ব্যানারে এ কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে শ্রমিক কর্মচারীরা।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম বন্দরের অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির বণিক বার্তাকে বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটি'র বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনার তোয়াক্কা না করে উল্টো দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। একের পর এক বদলি আদেশ আসছে। এতে ফল উল্টো হবে। আগামীকালও (সোমবার) ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছি আমরা।

আরও