পল্লী
অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কুষ্টিয়ার কুমার নদের ওপর নির্মাণ শুরু হয় ২০২১ সালের
মার্চে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে প্রায় দেড় বছর পার হলেও শেষ হয়নি সেতু নির্মাণ। কাজ ফেলে চলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এখন কাজ শুরু করতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
এলজিইডি সূত্র বলছে, উজানগ্রাম-ঝাউদিয়া সড়কের কুমার নদের ওপর প্রি-স্ট্রেসড গার্ডার ব্রিজটির দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০২০ সালে। ৬ কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যয়ে ৮১ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণকাজ পায় পাবনার নূরুজ্জামান কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। নির্মাণ শুরু হয় ২০২১ সালের মার্চে। কাজের সময় দেয়া হয় দুই বছর। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সেতুর নির্মাণকাজ ৬০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালের জুনে নির্মাণ-ভূমি থেকে চলে যায়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি আর সেখানে ফিরে আসেনি। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তুলে নিয়েছে প্রাক্কলন ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ।
সেতুসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রায় চার বছর আগে সেতু কাজ শুরু হয়। এখনো শেষ হয়নি।’ এজন্য তিনি ঠিকাদার ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়ী করেন।
উজানগ্রামের বাসিন্দা পানচাষী সৈয়দ সিরাজ বলেন, ‘সরকার তো সেতু ঠিকই দিয়েছিল, কিন্তু যারা শেষ করছে না, তারা দোষী।’
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকু বলেন, ‘এজন্য প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা আমলে আনতে হবে। ঠিকাদার পালিয়ে গেছেন, আর তারা হাত গুটিয়ে বসে আছেন? এসবে ঠিকাদার ও তত্ত্বাবধানকারী অফিসের যোগসাজশ থাকতে পারে। খতিয়ে দেখা উচিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।’
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এলজিইডির সেতু বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অনেক জেলাতেই এ রকম ঘটনা ঘটে। কাজের এক পর্যায়ে অনেক ঠিকাদারেরই কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েই চলেছে। এতে সরকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।
এলজিইডি কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এরই মধ্যে ঠিকাদারের জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে ঠিকাদার পুনরায় কাজে যোগদান করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’