দুদকের মামলা

বাগেরহাটের মেয়রকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

অবৈধ নিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান ও সাবেক পৌর সচিব রেজাউল করিমের নামে

দুদকের মামলায় বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান ও সাবেক পৌর সচিব রেজাউল করিমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে তারা জেলা ও দায়রা জজ মো.রবিউল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

দুজনের পক্ষে এদিন বাগেরহাট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ কে আজাদ ফিরোজ টিপু নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ জন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন। এদিকে বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমানের জামিন নামঞ্জুর হওয়ার খবরে তার সমর্থকরা আদালতের সামনে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়ক অবোরোধ করে। কিছু সময়ের পর অবরোধ তুলে নেয়া হয়। 

মামলা সূত্রে জানা যায়,অবৈধ নিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান ও সাবেক পৌর সচিব রেজাউল করিমের নামে গত বছরের ২৫ নভেম্বর মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে আলাদা দুটি মামলা দায়ের করেন। 

এর মধ্যে পৌরসভার বিভিন্ন পদে নিয়োগের নামে টাকা আত্মসাতের মামলায় মেয়র হাবিবুরসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়। ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ নিয়মনীতি না মেনে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মেয়র হাবিবুর রহমান অবৈধভাবে ১৭ জনকে পৌরসভার বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়। এর  মাধ্যমে তিনি সরকারি কোষাগার থেকে এক কোটি ২৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

অপর মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পৌরসভার উন্নয়নের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডে দুই কোটি টাকা জমা করে। ওই টাকা থেকে আবাহনী ক্লাব ও ডায়াবেটিক হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৫০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান ও তৎকালীন সচিব মোহম্মদ রেজাউল করিম ভবন নির্মাণ না করে পরস্পর যোগসাজশে ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ড. একে আজাদ ফিরোজ টিপু বলেন, পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান এবং বাগেরহাট পৌরসভার সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করে । আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মেয়র শারীরীকভাবে অসুস্থ। তার অসুস্থতার প্রয়োজনী কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করলে আদালত তাকে ডিভিশনসহ প্রয়োজনী চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেন। মামলাটি আইনি মোকাবেলা করা হবে বলে জানান তিনি।  

দুদকের আইনজীবী ছিলেন মিলন কুমার ব্যানার্জি বলেন, আসামিরা উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করে। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে মেয়র হাবিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশের প্রতিবাদে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তার সমর্থকেরা। খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের দশানি, ভিআইপি মোড় ও বাসস্ট্যান্ড মোড় এলাকায় মেয়রের সমর্থকেরা সড়কের ওপর আড়াআড়ি করে বাস রেখে সড়ক অবরোধ করেন। এতে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।  কিছুক্ষণ পর অবরোধ তুলে নেন কর্মী-সমর্থকেরা। 

আরও