নভেল করোনাভাইরাসের কারণে পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য হবে না আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক। প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে সব ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য বণিক বার্তাকে বলেন, করোনাকালে মিটিং-সিটিং করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য প্রবীণ। তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। সবকিছু বিচার-বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রীর ওপর এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাই মনোনয়ন বোর্ডের একটি বৈঠক আহ্বান করা হলেও তা বাতিল করা হয়েছে। আর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সব কাগজপত্র বোর্ড সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। তিনি দক্ষ মাঝির কাছে নৌকার হাল তুলে দেবেন।
গত ১৩ জুন মারা যান সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। ৯ জুলাই থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন। ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা মারা যান ৬ মে, পাবনা-৪ আসনের এমপি শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ২ এপ্রিল এবং সর্বশেষ গত ২৭ জুলাই মারা যান নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম। এ আসনগুলোয় নির্বাচনে আগ্রহীদের দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের আহ্বান করে আওয়ামী লীগ। পাঁচ আসনের ১৪১ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনে সর্বোচ্চ ৫৬ জন এবং সিরাজগঞ্জ-১ আসনে সর্বনিম্ন তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। এত সংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় দলের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
পাঁচ আসনের মধ্যে পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর এখানে ভোট হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ৩ সেপ্টেম্বর বাছাইয়ের পর ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। পাবনার এ উপনির্বাচন হবে ব্যালট পেপারে। এছাড়া ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬-এর উপনির্বাচন ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইসি। তবে এ দুটি আসনের এখনো তফসিল দেয়নি তারা। আর ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনের দিনক্ষণ ও তফসিল এখনো দেয়নি ইসি।
আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের অন্য এক সদস্য বলেন, অন্য শূন্য হওয়া আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা না হলেও দলীয়
মনোনয়নপত্র যারা কিনেছেন, সেসব মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের দক্ষতা-যোগ্যতা ও ত্যাগ বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। আগে
সংসদীয় বোর্ডের সভার সব সদস্যের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের সাক্ষাত্কার নেয়ার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করত আওয়ামী লীগ। করোনাভাইরাসের কারণে এবার চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে দিয়েছেন অন্য সদস্যরা।
সংসদীয় বোর্ড সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, নির্বাচন কমিশন পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের যে তফসিল ঘোষণা করেছেন, আমার জানামতে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন হবে না, পিছিয়ে যাবে। অন্য নির্বাচনগুলোও পেছাবে। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি এখনো কমেনি, বরং আগের চেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচন হওয়ার কথা নয়। তাই বোর্ডসভাও সম্ভব নয়।