বিমানের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ভর্তুকি

অসম প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবি বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর

কয়েক মাস ধরেই দফায় দফায় বাড়ছে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম। অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম গত জানুয়ারিতে ছিল ৭৩ টাকা। বাড়তে বাড়তে জ্বালানি পণ্যটির দাম এখন ১০৬ টাকা। অন্যদিকে কভিড-১৯-এর প্রভাবে গত দুই বছর প্রায় লোকসান দিয়ে কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে হয়েছে দেশের এয়ারলাইনসগুলোকে। আবার

কয়েক মাস ধরেই দফায় দফায় বাড়ছে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম। অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম গত জানুয়ারিতে ছিল ৭৩ টাকা। বাড়তে বাড়তে জ্বালানি পণ্যটির দাম এখন ১০৬ টাকা। অন্যদিকে কভিড-১৯-এর প্রভাবে গত দুই বছর প্রায় লোকসান দিয়ে কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে হয়েছে দেশের এয়ারলাইনসগুলোকে। আবার অভ্যন্তরীণ রুটে রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টিকিট বিক্রি করছে ভর্তুকি দিয়ে। পরিস্থিতিতে বিমানের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা ঠেকাতে সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোর সংগঠন এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)

বেসামরিক বিমান পরিবহন পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ, নিয়মিত ব্যবধানে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, যন্ত্রাংশ আমদানির জটিলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের নীতিগত সহায়তা চেয়ে গতকাল চিঠি দিয়েছে এওএবি। এওএবির মহাসচিব নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান এবং এওএবির সিনিয়র সহসভাপতি ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন সংগঠনটির পক্ষে চিঠি দেন।

এওএবির দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটগুলোয় যাত্রীপ্রতি হাজার টাকার বেশি ভর্তুকি দিয়ে আসছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। দেশের দরিদ্র জনসাধারণের কর রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকায় সচ্ছল যাত্রীদের ভর্তুকি প্রদান ন্যায়নীতির পরিপন্থী। বিমান বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের গৌরবের প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ভর্তুকির মাধ্যমে সংস্থাটির যাত্রী পরিবহনের কারণে বেসরকারি এয়ারলাইনস খাত অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। কারণ একই রকমভাবে ভর্তুকিনির্ভর ফ্লাইট পরিচালনা বেসরকারি এয়ারলাইনসের জন্য কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অভ্যন্তরীণ যাত্রীপ্রতি আয়ের বিপরীতে প্রায় দ্বিগুণ ভর্তুকি দিয়ে দীর্ঘদিন ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে বিমান। ন্যায়নীতির স্বার্থে বেসরকারি এয়ারলাইনসকে রক্ষার জন্য দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান প্রয়োজন।

প্রসঙ্গে এওএবির মহাসচিব নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, করোনার কারণে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলো এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরাও আকাশপথে ভ্রমণ কমিয়ে দিচ্ছে। অবস্থায় বিমান ভর্তুকি দিয়ে টিকিট বিক্রি করায় যাত্রী পাচ্ছে না বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো। জ্বালানি খরচের পাশাপাশি একটি রুটের ভাড়া নির্ধারণে অ্যারোনটিক্যাল চার্জ (ল্যান্ডিং, পার্কিং, সিকিউরিটি, রুট নেভিগেশন), বিভিন্ন ধরনের নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জ (অফিস স্পেস, বোর্ডিং ব্রিজ, হ্যাঙ্গার সুবিধা) ইত্যাদির ফি বিবেচনায় রাখতে হয়। বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরের ট্যাক্স, সিকিউরিটি ফি, এম্বারকেশন ফি, এক্সাইজ ডিউটিসহ নানাবিধ চার্জকে প্রাধান্য দিতে হয়। ইন্স্যুরেন্স সারচার্জকেও বিবেচনায় রাখতে হয়। শুধু তা- নয়, উড়োজাহাজের লিজ খরচ, ডেপ্রিসিয়েশন, বৈমানিক-ক্রুসহ সব কর্মীর বেতন, শুল্ক-কর, পরিচালন ব্যয়সহ নানা খরচ রয়েছে, যার সবই ব্যয়। আয় কেবল টিকিট বিক্রি থেকে। অবস্থায় কোনো বেসরকারি এয়ারলাইনসের পক্ষেই দীর্ঘদিন ভর্তুকি দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব নয়। দেশের এভিয়েশন খাতকে টিকিয়ে রাখতেই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

আরও